বিশ্বকাপে নিজেদের মিশন শুরু করতে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় কাল ভোর ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে গ্রুপ ‘সি’-এর এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। ম্যাচটিকে সামনে রেখে দল গোছাতে ব্যস্ত ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতার ওপর ভরসা রেখে তিনি এমন একটি একাদশ গঠনের পরিকল্পনা করছেন, যেখানে ২০২২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে খেলেছিলেন এমন আটজন ফুটবলার আবারও শুরুর একাদশে জায়গা পেতে পারেন।
ম্যাচের আগে শেষ অনুশীলন সেশন ছিল বেশ নিবিড় ও কৌশলনির্ভর। বিশেষ করে সেট পিস পরিস্থিতিকে আরও কার্যকর করতে আলাদা গুরুত্ব দেন আনচেলত্তি। আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক—দুই ধরনের কর্নার এবং ফ্রি-কিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করানো হয় খেলোয়াড়দের। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের বক্সের আশপাশ থেকে সুযোগ তৈরি এবং সেই সুযোগকে গোলে রূপ দেওয়ার দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ফরোয়ার্ডদের জন্য বিশেষ ফিনিশিং ড্রিলও পরিচালনা করা হয়।
অনুশীলনের সময় কোচ বিভিন্ন কম্বিনেশন পরীক্ষা করে দেখেন। বাম প্রান্তে আলেক্স সান্দ্রোর সঙ্গে ডগলাস সান্তোসকে খেলিয়ে সম্ভাব্য বিকল্প পরিকল্পনা যাচাই করা হয়। একইভাবে আক্রমণভাগে নিয়মিত বিকল্প হিসেবে বিবেচিত ম্যাথিউস কুনহার পরিবর্তে ইগর থিয়াগোকেও সুযোগ দিয়ে দেখা হয়। এছাড়া মাঝমাঠ ও ডান প্রান্তে লুইজ হেনরিককে ব্যবহার করে কয়েকটি কৌশলগত পরীক্ষা চালানো হয়েছে। তবে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সত্ত্বেও মূল একাদশে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
ব্রাজিল কোচিং স্টাফ বিশেষভাবে সন্তুষ্ট মিডফিল্ড জুটি ব্রুনো গিমারায়েস ও লুকাস পাকেতার পারফরম্যান্সে। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে তাদের বোঝাপড়া, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং জায়গা দখলের দক্ষতা দলের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মধ্যমাঠে এই দুই ফুটবলারের কার্যকর উপস্থিতি ব্রাজিলকে আক্রমণ ও রক্ষণ—উভয় ক্ষেত্রেই বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
অন্যদিকে আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়ার ওপর বড় ভরসা করছে সেলেসাওরা। দুই উইঙ্গারের গতি, ড্রিবলিং দক্ষতা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতা ব্রাজিলের আক্রমণকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। কোচ আনচেলত্তি চাইছেন, তারা যেন আক্রমণে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে পারেন এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ফাঁক তৈরি করতে পারেন।
দলীয় কৌশলের দিক থেকে ব্রাজিল ৪-৪-২ ফরমেশনে মাঠে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনায় ম্যাথিউস কুনহা বাম দিক থেকে নেমে রক্ষণভাগকে সহায়তা করবেন, আর লুকাস পাকেতা ডান দিকে সরে এসে মাঝমাঠের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবেন। ফলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়া আক্রমণভাগে আরও বেশি স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে পারবেন এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে দ্রুত আঘাত হানার সুযোগ পাবেন।
মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুটা জয় দিয়ে করতে চায় ব্রাজিল। সেই লক্ষ্য নিয়েই অভিজ্ঞ ও ভারসাম্যপূর্ণ দল সাজিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। সবকিছু ঠিক থাকলে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যেতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য শুরুর একাদশ (গ্লোবোর তথ্য অনুযায়ী):
গোলরক্ষক: আলিসন বেকার।
রক্ষণভাগ: দানিলো, মারকুইনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, আলেক্স সান্দ্রো।
মিডফিল্ড: কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, লুকাস পাকেতা, ম্যাথিউস কুনহা।
আক্রমণভাগ: ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া।
Leave a Reply