মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে কর্মরত হাজারো শিক্ষক বকেয়া ডান (DAN) সম্পন্ন হওয়ার পরও এখনো তাদের প্রাপ্য বকেয়া বেতন পাননি। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ডান সম্পন্ন হলেও অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হওয়ায় অনেক শিক্ষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মাউশি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে যেসব শিক্ষকের বকেয়া ডান সম্পন্ন হয়েছে, তাদের জন্য পৃথকভাবে বকেয়া বেতনের অর্থ বরাদ্দের প্রস্তুতি চলছে। তবে অর্থ ছাড়ের আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও হিসাব পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এই যাচাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই অনুমোদনের জন্য ফাইল উপস্থাপন করা হবে।
তথ্য অনুযায়ী, স্কুল পর্যায়ে মে মাসে ডান সম্পন্ন হওয়া ৬ হাজার ২৯০ জন শিক্ষক বকেয়া হিসেবে মোট ৬১ কোটি ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার ৬৬৮ টাকা পাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে কলেজ পর্যায়ে ৯৫৬ জন শিক্ষক পাবেন মোট ১১ কোটি ৬৫ লাখ ২৯ হাজার ৪৩২ টাকা। সব মিলিয়ে ৭ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষক প্রায় ৭৩ কোটি ১১ লাখ ৯৪ হাজার ১০০ টাকা বকেয়া পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
মাউশি সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চেষ্টা করছেন চলতি জুলাই মাসের এমপিও বেতনের সঙ্গে এই বকেয়া অর্থও পরিশোধ করতে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বকেয়া অর্থ ছাড়ের জন্য একটি ফাইল অনুমোদনের উদ্দেশ্যে উত্থাপন করা হয়েছে।
জানা গেছে, ফাইলটি বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল-এর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি অনুমোদন দিলেই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জুলাই মাসের বেতনের সঙ্গে তাদের বকেয়া অর্থ একসঙ্গে পেয়ে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, “মে মাসে ডান হওয়া শিক্ষকদের বকেয়া বেতনের ফাইল অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। মহাপরিচালক অনুমোদন দিলেই চলতি জুলাই মাসের বেতনের সঙ্গে বকেয়া অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।”
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বকেয়া অর্থ ছাড়ের আগে শিক্ষকসংখ্যা, প্রাপ্য অর্থ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক তথ্য পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের ভুল বা জটিলতা না থাকে। যাচাই শেষে দ্রুত অনুমোদন সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য বকেয়া বেতন হাতে পাবেন।
এদিকে বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের দাবিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জুলাই মাসের বেতনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বকেয়া অর্থও তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।
Leave a Reply