এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদান প্রক্রিয়ায় এবার আগের তুলনায় আরও দ্রুত তৎপরতা শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। চলতি জুলাই মাসের বেতন বিল জমা নেওয়ার সময়সূচি মাসের মাঝামাঝিতেই নির্ধারণ করায় এটিকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাউশির ইএমআইএস (EMIS) সেলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৭ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের জুলাই মাসের বেতন বিল অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইএমআইএস সেলের প্রোগ্রামার মোঃ জহির উদ্দিন জানান, নির্ধারিত এই পাঁচ দিনের মধ্যেই সব প্রতিষ্ঠানকে জুলাই মাসের বিল সাবমিট করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে সাধারণত মাসের শেষ দিকে বা মাস শেষ হওয়ার পর বেতন বিল গ্রহণ ও পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হতো। কিন্তু এবার মাসের অর্ধেক পার হওয়ার আগেই বিল গ্রহণের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ইএফটি (EFT) পদ্ধতিতে বেতন প্রদানের কার্যক্রম আরও সময়োপযোগী ও গতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, ইএফটির মূল উদ্দেশ্য ছিল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রক্রিয়াকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা। যদিও দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবস্থার বাস্তবায়ন নিয়ে নানা ধরনের বিলম্বের অভিযোগ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাউশির কার্যক্রমে সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে।
চলতি জুলাই মাসের এমপিও বিল শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া অতিরিক্ত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়িভাড়া এ মাসের বিলের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হবে। এর ফলে পূর্বে কার্যকর থাকা বাড়িভাড়ার সঙ্গে নতুন বৃদ্ধি যোগ হবে।
এ ছাড়া নিয়মিত বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট (বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি) প্রাপ্যদের ক্ষেত্রেও তা জুলাই মাসের বেতনে প্রতিফলিত হবে। ফলে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনে আগের মাসের তুলনায় বৃদ্ধি দেখা যাবে।
মাউশির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬ মাসের এমপিওতে মোট ৩ লাখ ৯২ হাজার ২৯৩ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল পর্যায়ে ৩ লাখ ৪ হাজার ৩৫৭ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ৮৭ হাজার ৯৩৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
শিক্ষক নেতাদের আশা, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিল গ্রহণ ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জুলাই মাসের বেতনও আগের তুলনায় দ্রুত ছাড় করা সম্ভব হবে। এতে ইএফটি পদ্ধতির মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তিও অনেকাংশে কমে আসবে।
Leave a Reply