সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, তবে আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় এটি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে এবং এটি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা নেই। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব আহরণ এবং সরকারি ব্যয়ের সক্ষমতা বিবেচনায় একবারে নয়, বরং পর্যায়ক্রমে এই বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।
সম্প্রতি একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বর্তমানে দেশের অর্থনীতি যে চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই ধাপে ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এটার সিদ্ধান্ত হয়েছে, এটি আমরা গ্রহণ করেছি এবং বাস্তবায়ন হবে। তবে এটা হবে ক্রমান্বয়ে। আমাদের বর্তমান আর্থিক যে প্রেক্ষাপট, যে কঠিন সময় আমরা অতিক্রম করছি, এটাকে মাথায় নিয়ে ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।”
তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকার নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার বিষয়ে ইতোমধ্যে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে। তবে এককালীন বড় অঙ্কের আর্থিক চাপ এড়াতে এটি বিভিন্ন ধাপে বাস্তবায়নের পথে এগোতে চায় সরকার।
এদিকে নবম পে-স্কেলের খসড়া ও সুপারিশ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৫ জুলাই) এ বিষয়ে কমিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো, আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের কৌশল এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো পর্যালোচনার কাজ শেষ হয়নি। বিভিন্ন সুপারিশের আর্থিক প্রভাব বিশ্লেষণ এবং বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করতে আরও কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠক শেষে চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে।
অন্যদিকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে রাজস্ব আদায়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। অর্থমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাজেটের লক্ষ্য অর্জন এবং নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি দাবি করেন, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের শেষ চার মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরেও নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আহরণ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমাদের যে পরিকল্পনা এবং ম্যানেজমেন্ট, আমাদের যে দক্ষতা, আমরা আশা করছি যে টার্গেট দিয়েছি সেটা মিট করতে পারব, ইনশাআল্লাহ। ট্যাক্সেশন বা এনবিআরের পরিচালনায় বড় ধরনের একটা পরিবর্তন আসবে।”
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রশাসন ও কর ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য সংস্কার আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে কর আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ ও আধুনিক করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তবে নবম পে-স্কেল প্রণয়ন কমিশন বা সচিব কমিটির সুপারিশে কোনো ধরনের সংশোধন, কাটছাঁট বা পরিবর্তন আনা হবে কি না—এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি অর্থমন্ত্রী। ফলে কমিশনের প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো, ইনক্রিমেন্ট, বিভিন্ন ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা অপরিবর্তিত থাকবে নাকি বাস্তবতার আলোকে কিছু সংশোধন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হলেও, চূড়ান্ত কাঠামো, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং কোন কোন সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে—এসব বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
প্রয়োজনে এটিকে আরও সংবাদপত্র-স্টাইলে, SEO-উপযোগী ভাষায় বা ইউটিউব নিউজ স্ক্রিপ্ট হিসেবেও সাজিয়ে দিতে পারি।
Leave a Reply