মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এখন থেকে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) বা ইএফটি পদ্ধতিতে সরাসরি তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। সরকারের Government to Person (G2P) উদ্যোগের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষক-কর্মচারীর ব্যক্তিগত, এমপিও ও ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
রবিবার (১৯ জুলাই) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় সব তথ্য যথাযথভাবে পূরণ করে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য হালনাগাদ না করলে ভবিষ্যতে ইএফটি পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা গ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
ফরম পূরণের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার—
উল্লেখ করতে হবে।
এরপর প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অথবা সুপারের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তথ্য পূরণের কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
প্রত্যেক শিক্ষক-কর্মচারীকে তাদের এমপিও শিট অনুযায়ী Prefix-সহ ইংরেজিতে ইনডেক্স নম্বর লিখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ইনডেক্স নম্বর ভুল লেখা যাবে না।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বিশেষভাবে জানিয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অনুযায়ী সকল তথ্য দিতে হবে। নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ কিংবা অন্য কোনো তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে অমিল থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ইএফটি পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা পাবেন না।
নির্ধারিত ফরমে নিম্নোক্ত তথ্যগুলো প্রদান করতে হবে—
১. আবেদনকারীর নাম (ইংরেজিতে)
২. আবেদনকারীর নাম (বাংলায়)
৩. পিতার নাম (ইংরেজিতে)
৪. পিতার নাম (বাংলায়)
৫. মাতার নাম (ইংরেজিতে)
৬. মাতার নাম (বাংলায়)
৭. জন্মতারিখ (ইংরেজিতে)
ফরম্যাট হবে: DD/MM/YYYY
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জন্মতারিখ অবশ্যই নিচের তিনটি নথিতে একই থাকতে হবে—
এই তিনটি নথিতে জন্মতারিখে কোনো অমিল থাকলে আগে তা সংশোধন করতে হবে।
৮. জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (ইংরেজিতে)
৯. মোবাইল নম্বর (ইংরেজিতে)
যে মোবাইল নম্বরটি প্রদান করা হবে, সেটি অবশ্যই আবেদনকারীর নিজ জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত (রেজিস্ট্রেশনকৃত) হতে হবে।
১০. পদবী (ইংরেজিতে)
বর্তমানে এমপিও অনুযায়ী যে পদে কর্মরত আছেন, সেই পদবী লিখতে হবে।
১১. বিষয় (Subject)
বিষয়ের নাম ইংরেজিতে লিখতে হবে। যদি কোনো বিষয় প্রযোজ্য না হয়, তাহলে “Null” লিখতে হবে।
১২. বেতন কোড (ইংরেজিতে)
এমপিও অনুযায়ী প্রযোজ্য বেতন কোড লিখতে হবে।
১৩. যোগদানের তারিখ (ইংরেজিতে)
ফরম্যাট হবে: DD/MM/YYYY
১৪. প্রথম এমপিওভুক্তির তারিখ (ইংরেজিতে)
ফরম্যাট হবে: DD/MM/YYYY
ইএফটি পদ্ধতিতে বেতন পাঠানোর জন্য আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবের সঠিক তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক।
ফরমে নিচের তথ্যগুলো দিতে হবে—
(ক) ব্যাংকের নাম
বর্তমানে যে ব্যাংকের মাধ্যমে এমপিওর বেতন উত্তোলন করা হয়, সেই ব্যাংকের নাম লিখতে হবে।
(খ) ব্যাংক শাখার নাম
যে শাখার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের এমপিও বেতন বিতরণ হয়, সেই শাখার নাম লিখতে হবে।
(গ) ব্যাংক হিসাবের নাম (ইংরেজিতে)
ব্যাংক হিসাবের নাম অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা নামের সঙ্গে হুবহু মিল থাকতে হবে।
(ঘ) ডিজিটাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর (ইংরেজিতে)
ব্যক্তিগত ডিজিটাল ব্যাংক হিসাব নম্বর লিখতে হবে।
(ঙ) শাখার রাউটিং নম্বর (ইংরেজিতে)
সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখার রাউটিং নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
ফরমের শেষে নিম্নোক্ত প্রত্যয়ন দিতে হবে—
“এই মর্মে প্রত্যয়ন করছি যে, উক্ত তথ্য আবেদনকারী কর্তৃক পূরণকৃত এবং প্রদত্ত সকল তথ্য সঠিক।”
এরপর—
দিতে হবে।
ফরম জমা দেওয়ার সময় নিচের নথিগুলোর ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে—
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, আবেদনকারীর ইংরেজি নাম অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র এবং দাখিল/সমমানের সনদে একই থাকতে হবে। নাম, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা ব্যাংক হিসাবের তথ্যের কোনো ধরনের অসঙ্গতি থাকলে ইএফটি পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা প্রাপ্তিতে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই তথ্য পূরণের আগে সব নথি ভালোভাবে মিলিয়ে নিয়ে নির্ভুলভাবে ফরম পূরণের জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply