চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল ২০ জুলাই প্রকাশের যে সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল, সেটি আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। প্রশাসনিক নানা ব্যস্ততা এবং ফল প্রস্তুতের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হওয়ায় ফল প্রকাশের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যদিও এখনো নতুন কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুলাই মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, ২০ জুলাই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য, উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষাকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা ও প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে ফল প্রস্তুতের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়নি। ফলে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, শিক্ষা বোর্ডগুলো মাসের শেষের দিকে ফল প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে সেই লক্ষ্য অর্জন করা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত সব কার্যক্রম শেষ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশের বিষয়ে আশাবাদী।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন একাধিকবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। তাঁর এমন বক্তব্যের পর পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ওই তারিখকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটিকে ফল প্রস্তুতের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছিল এবং সে অনুযায়ী বোর্ডগুলো প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও এগিয়ে নিচ্ছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে সোমবার (২০ জুলাই) ফল প্রকাশের সম্ভাবনা কার্যত বাতিল হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, শুরু থেকেই ২০ জুলাইকে সামনে রেখে ফল প্রস্তুতের কাজ চলছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জরুরি প্রশাসনিক দায়িত্ব ও অন্যান্য কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যস্ত থাকতে হওয়ায় ফল প্রক্রিয়াকরণ, যাচাই-বাছাই এবং প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ফল প্রকাশে কয়েক দিনের বিলম্ব হতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।
তারা আরও বলেন, পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে বিভিন্ন ধাপে তথ্য যাচাই, নম্বর সংকলন, বোর্ডভিত্তিক ফল চূড়ান্তকরণ এবং সার্বিক সমন্বয়ের কাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হয়। এসব কাজের কোনো অংশ অসম্পূর্ণ রেখে ফল প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তাই নির্ভুল ফল প্রকাশ নিশ্চিত করতেই সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশে সাধারণত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশের প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়। সেই হিসাবে চলতি বছরও জুলাই মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল।
এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে। এরপর উত্তরপত্র মূল্যায়ন, নম্বর সংকলন এবং ফল প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষার্থী ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা না হলেও জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহেই ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
Leave a Reply