বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নেতৃত্বে নিয়োগ সুপারিশ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা বহুল আলোচিত পরিপত্রটি বাতিল করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষক ব্যতীত অন্যান্য এমপিওভুক্ত কর্মচারী নিয়োগে সুপারিশের ক্ষমতা আবারও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির কাছে ফিরে এসেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক ব্যতীত অন্যান্য এমপিওভুক্ত পদে নিয়োগের সুপারিশ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গত বছরের ২৮ আগস্ট জারি করা পরিপত্রটি বাতিল করা হলো।
পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি জারি করা ‘এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক ব্যতীত অন্যান্য এমপিও পদে নিয়োগের অনুসরণীয় নির্দেশমালা’-এর ২.৪ ধারার ক, খ ও গ উপধারায় বর্ণিত অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান অপরিবর্তিত থাকবে। তবে এসব পদ ছাড়া অন্যান্য এমপিওভুক্ত কর্মচারী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বের নির্দেশনাই বহাল থাকবে।
যেসব পদে আগের নির্দেশনা বহাল রাখা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— ট্রেড অ্যাসিস্ট্যান্ট, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, গবেষণাগার/ল্যাব সহকারী, নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নৈশ প্রহরী, আয়া এবং অফিস সহায়ক।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ আগস্ট জারি করা পরিপত্রে শিক্ষক ব্যতীত অন্যান্য এমপিওভুক্ত কর্মচারী পদে নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি নিয়োগ সুপারিশ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ওই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকের। সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছিল জেলার সবচেয়ে পুরোনো সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অথবা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের একজন প্রতিনিধি (যিনি পরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে হবেন না) এবং সংশ্লিষ্ট জেলার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক বা সহকারী পরিচালককে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছিল।
সেই পরিপত্রে আরও বলা হয়েছিল, নিয়োগ সুপারিশ কমিটি লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে, ফলাফল প্রস্তুত করবে এবং চূড়ান্তভাবে নিয়োগের সুপারিশ প্রদান করবে। প্রয়োজনে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য একাধিক বোর্ডও গঠন করা যাবে। এসব বোর্ডের নেতৃত্ব দেবেন জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি এবং প্রতিটি বোর্ডে নবম গ্রেডের নিচে নয়—এমন তিনজন সদস্য থাকবেন।
তবে সর্বশেষ জারি করা পরিপত্রের মাধ্যমে সেই পুরো ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। ফলে কর্মচারী নিয়োগে সুপারিশ প্রদানের দায়িত্ব আবারও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরে এসেছে।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে নির্দেশমালা জারি করেছিল, সেখানে শিক্ষক ব্যতীত অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগের জন্য প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে নিয়োগ কমিটি গঠনের বিধান ছিল। ওই কমিটিতে সদস্য হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি অথবা স্নাতক কলেজের ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকতেন। আর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষক ব্যতীত এমপিওভুক্ত বিভিন্ন কর্মচারী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আবারও পূর্বের প্রশাসনিক কাঠামো কার্যকর হলো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির ভূমিকা পুনর্বহাল করা হয়েছে।

Leave a Reply