বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। তবে শিক্ষক বদলির জন্য তৈরি করা সফটওয়্যারে শিক্ষকদের পাশাপাশি কর্মচারীদের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে কেন—এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে অবশেষে ব্যাখ্যা দিয়েছে মাউশি। অধিদপ্তর জানিয়েছে, একটি বিশেষ প্রশাসনিক উদ্দেশ্য সামনে রেখেই কর্মচারীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কার্যকর এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মচারী নিয়োগের দায়িত্ব জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। সে কারণে দেশের সব এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কর্মরত কর্মচারীদের তথ্য এবং শূন্য পদের তথ্য একত্রে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর কোন প্রতিষ্ঠানে কতটি কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়ে শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির একজন কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চলাকালীন অথবা বদলি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরপরই কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। মূলত সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই কর্মচারীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি জানান, কোন প্রতিষ্ঠানে কতটি কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে, তার নির্ভুল তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। এরপর পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।
এদিকে বহু প্রতীক্ষিত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মাউশি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০ জুলাই থেকে শিক্ষকদের অনলাইনে বদলির আবেদন গ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আবেদন গ্রহণ চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হবে।
অধিদপ্তরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত বদলির আবেদন গ্রহণ করা হবে। এরপর আবেদন যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে অথবা আগস্ট মাসের শুরুতে শিক্ষকদের বদলির আদেশ কার্যকর হতে পারে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা নিজ জেলা কিংবা স্বামী-স্ত্রী একই কর্মস্থল বা কাছাকাছি এলাকায় চাকরির সুযোগ পাবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘১৫ জুলাই পর্যন্ত তথ্য ভেরিফাই এবং চূড়ান্তকরণের কাজ চলবে। এরপর বদলি আবেদন শুরু হবে। আমরা জুলাইয়ের মধ্যেই শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চাই।’
এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাউশির আরেক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত বদলির আবেদন গ্রহণ করা হবে। এরপর মাত্র ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে শিক্ষকদের বদলির আদেশ জারি করা হতে পারে। ফলে যোগ্য শিক্ষকরা নিজ জেলা অথবা স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলের নিকটবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলির সুযোগ পাবেন।
মাউশির কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষক বদলি কার্যক্রমের পাশাপাশি কর্মচারীদের তথ্য সংগ্রহের কাজও একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কারণ, শিক্ষক বদলির পরপরই কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য এখন থেকেই শূন্য পদের তথ্য চূড়ান্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
Leave a Reply