বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চালু করা সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের তথ্য ইনপুটের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ রাতের মধ্যেই সব বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের প্রয়োজনীয় তথ্য সফটওয়্যারে আপলোড করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে তথ্য প্রদান সম্পন্ন করার জন্য ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, বদলি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার স্বার্থে দেশের সব বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান তথ্য প্রদান থেকে বাদ পড়তে পারবে না। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তথ্য ইনপুট করার পর সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা।
সূত্র জানিয়েছে, উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা বদলি সফটওয়্যারের সার্ভারে তাদের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পর্যবেক্ষণ করবেন। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য সার্ভারে দৃশ্যমান না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও আপলোড নিশ্চিত করবেন। অর্থাৎ একটি উপজেলার সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সার্ভারে সম্পূর্ণভাবে আপলোড না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তথ্য পাঠাতে পারবেন না।
একই প্রক্রিয়া জেলা পর্যায়েও অনুসরণ করা হবে বলে জানা গেছে। মাউশির সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কোনো জেলার অধীনস্থ সব উপজেলার স্কুল-কলেজের তথ্য সার্ভারে সম্পূর্ণভাবে আপলোড না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সেই তথ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রেরণ করতে পারবেন না। ফলে বদলি কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপই পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য সময়মতো আপলোড হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে অধিদপ্তর।
তবে নির্ধারিত সময়সীমা বৃহস্পতিবার শেষ হলেও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রাখা হয়েছে। মাউশি জানিয়েছে, সফটওয়্যারে তথ্য সম্পাদনার (এডিট) সুবিধা আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত চালু থাকবে। ফলে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য ভুলভাবে ইনপুট হয়ে থাকলে কিংবা পরবর্তীতে কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ওই সময়ের মধ্যে তথ্য সংশোধন করে চূড়ান্ত করতে পারবেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আজকের মধ্যেই তথ্য ইনপুট সম্পন্ন করতে হবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা প্রয়োজনে তাদের নিজ নিজ অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছুটা অতিরিক্ত সময় দিতে পারেন। তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সফটওয়্যারে সম্পূর্ণভাবে আপলোড না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদন গ্রহণ শুরু করা হবে না। তাই প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকেই বাধ্যতামূলকভাবে তথ্য প্রদান করতে হবে।
এদিকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বদলি আবেদন আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদন গ্রহণ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই যোগ্য শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মাউশির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২০ জুলাই থেকে বদলির আবেদন গ্রহণ শুরু হবে এবং তা চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দ্রুত যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে জুলাই মাসের শেষ দিকে অথবা আগস্ট মাসের শুরুতে শিক্ষকদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এর মাধ্যমে অনেক শিক্ষক নিজ জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অথবা স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলের নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠানে বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন।
বদলি কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্তকরণের কাজ চলবে। এরপর বদলির আবেদন গ্রহণ শুরু করা হবে। তিনি জানান, অধিদপ্তরের লক্ষ্য হচ্ছে জুলাই মাসের মধ্যেই শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাউশির আরেক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত বদলির আবেদন গ্রহণ করা হতে পারে। এরপর আবেদন যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে মাত্র তিন থেকে সাত দিনের মধ্যেই শিক্ষকদের বদলির আদেশ জারি করা হতে পারে। এতে যোগ্য শিক্ষকরা নিজ জেলা অথবা পারিবারিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলের নিকটবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলির সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
Leave a Reply