২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী বছরের প্রচলিত সময়সূচির পরিবর্তে জানুয়ারি মাসেই আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৮ সাল থেকে দেশের শিক্ষা কারিকুলামেও পরিবর্তন আনা হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সময়োপযোগী ও কার্যকর করতে সরকার এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবদের অংশগ্রহণে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করা হয়।
বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার সময়সূচির কারণে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এসএসসি ও এইচএসসি—এই দুটি পাবলিক পরীক্ষা মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে মোট ৪০ লাখ শিক্ষাবর্ষ কার্যত অপচয় হচ্ছে। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ সময়ের ক্ষতি দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক সম্ভাবনাকে পিছিয়ে দেয়। ফলে জাতীয় উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনের ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই কারণেই সরকার ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও পরীক্ষাটি আরও কিছুটা পরে নেওয়ার সুযোগ ছিল, তবে পবিত্র রমজান মাসের বিষয়টি বিবেচনায় এনে সরকার এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করেছে। সবার মতামত ছিল, রোজা ও ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষা সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থীদের জন্য সেটি অধিক সুবিধাজনক হবে। সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতেই জানুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নকল ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসদুপায় কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
শিক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ডিটেনশনে নেওয়া হবে অথবা প্রচলিত আইনের আওতায় আনা হবে। একইভাবে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের ঘটনা প্রমাণিত হলে শুধু শিক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কিংবা কেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে আগের মতো প্রচলিত পদ্ধতিতে নকলের ঘটনা খুব বেশি দেখা না গেলেও নকলের ধরন ও কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। তাই সময়ের বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার পুরোনো ‘পরীক্ষা আইন’ সংশোধন করে আধুনিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী নকল ও প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, নকল কিংবা প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান, বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারসহ শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
Leave a Reply