নবম জাতীয় পে-স্কেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে সভা আহ্বান করেছে পে-স্কেল সংক্রান্ত সচিব কমিটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কতটা বাড়ানো হবে, নতুন পে-স্কেলের গেজেট কবে প্রকাশ করা হবে এবং পে-স্কেল কত ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সচিব কমিটির প্রাথমিক পরিকল্পনায় নবম জাতীয় পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দ্রুত বেতন বৃদ্ধির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখন তিন ধাপের পরিবর্তে দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বুধবার অনুষ্ঠিতব্য সচিব কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, যদি শেষ পর্যন্ত দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে আগামী ১ জুলাই থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ বেসিক বেতন বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং সচিব কমিটির সিদ্ধান্তের ওপরই এটি নির্ভর করছে।
এদিকে সচিব কমিটির সভায় শুধু বেসিক বেতন বৃদ্ধির বিষয় নয়, পে-কমিশনের সুপারিশের কতটুকু বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। অর্থাৎ পে-কমিশন যে পরিমাণ বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করেছিল, তার কতটুকু সরকার বাস্তবায়ন করবে—সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনা হবে।
একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ও সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা কত টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে, সে বিষয়েও সচিব কমিটির সদস্যরা আলোচনা করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, আগামীকাল বুধবার সচিব কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় নবম জাতীয় পে-স্কেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
অন্যদিকে, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেসিক বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে, নাকি শতভাগ বৃদ্ধি করা হবে—সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও সংশোধিত বেতনের অর্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে পৌঁছাতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে। কারণ নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে গেজেট প্রকাশ, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন এবং সফটওয়্যার ও হিসাব সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বুধবার অনুষ্ঠিতব্য সচিব কমিটির সভায় বেতন বৃদ্ধি, বাস্তবায়নের ধাপ, পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পরিধি, বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধি এবং গেজেট প্রকাশসহ নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নীতিগত অগ্রগতি আসতে পারে।
Leave a Reply