নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। এরই মধ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কতটা বাড়বে, তা নিয়ে শিক্ষক সমাজে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে এই বৃদ্ধি একবারে নয়, ধাপে ধাপে দুই অর্থবছরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন শতভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। তবে সেটি এক অর্থবছরে বাস্তবায়নের পরিবর্তে দুই অর্থবছরে ভাগ করে কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে শিক্ষকরা তাদের মূল (বেসিক) বেতনের ওপর ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবেন। এরপর ২০২৭-২০২৮ অর্থবছরে অবশিষ্ট অংশের একটি বড় অংশ যোগ হবে, যা ৫০ শতাংশের কিছু কম হতে পারে। এরপর ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে অন্যান্য ভাতা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধাগুলোর সমন্বয় বা প্রয়োজনীয় সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আলোচনা রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট মহলে আরেকটি বিকল্প প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, দুই ধাপে বেতন বৃদ্ধি না করে যদি চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরেই শতভাগ বেতন বৃদ্ধি দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনেকটাই পূরণ হবে। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র আরও জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বর্তমানে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রয়েছে। এই বরাদ্দের মধ্যে ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি বাস্তবায়ন করা তুলনামূলকভাবে সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যদি একবারেই শতভাগ বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করা হয়, তাহলে মোট প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। ফলে অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান করা সম্ভব হবে কি না, সেটিও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনও একই হারে বৃদ্ধি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অর্থাৎ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যে হারে বেসিক বেতন বৃদ্ধি চূড়ান্ত হবে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও একই হারে বেতন বৃদ্ধি পাবেন। যদি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৫০ শতাংশ বেসিক বেতন বৃদ্ধি অনুমোদন দেওয়া হয়, তাহলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ৫০ শতাংশ বর্ধিত বেতন পাবেন। আবার যদি সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শতভাগ বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করা হয়, তাহলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও একই হারে শতভাগ বেতন বৃদ্ধি পাবেন।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গতকাল অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকেও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বলা হয়, বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আলাদা কোনো হার নির্ধারণ করা হবে না। সবার ক্ষেত্রেই মূল (বেসিক) বেতনকে ভিত্তি ধরে একই হারে বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে।
তবে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঠিক কত শতাংশ বেতন বৃদ্ধি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সেই সিদ্ধান্তের ওপরই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হারও নির্ভর করবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
Leave a Reply