শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষকদের পে-স্কেল ও গ্রেডিংয়ের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। তিনি বলেন, আগে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে, এরপর বেসরকারি শিক্ষকদের বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কারণ অতীতেও কখনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য একযোগে পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি।
সোমবার (২২ জুন) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে সামনে রেখে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সভায় পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তব্যে ড. মিলন বলেন, “শিক্ষকদের পে-স্কেল, গ্রেডিংয়ের ব্যাপারে আমরা কথা বলছি। এখন পে-স্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের আগে হবে, তারপর আপনাদের হবে। দুইটা তো একসঙ্গে হবে না নাকি? কখনো তো হয়নি। সরকারি চাকরিজীবীরা আগে পান। তাদের হবে, তারপর আমাদেরটাও হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতো আপনারাও সার্ভিসটা দেবেন।”
তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাদানের বিকল্প নেই। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি মনে করেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক যদি মানসম্মত প্রশ্নপত্র তৈরি করতে চান, তাহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিতে পারবেন। শুধু প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেই এআই উন্নতমানের প্রশ্ন তৈরি করতে সক্ষম হবে। ধীরে ধীরে এ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাও সেই দিকেই এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তার ভাষায়, “শিক্ষকরা যদি চান ভালো প্রশ্ন তৈরি করতে, তাহলে শুধু মুখে বললেই এআই আপনাকে ভালো প্রশ্ন করে দেবে। এটা আস্তে-আস্তে হবে। চ্যাট জিটিপিকে আমরা আস্তে-আস্তে নির্ভরশীল করতে পারবো। আমরা ওই ধরনের আগামী শিক্ষা ব্যবস্থা চাচ্ছি। কারণ এর কোনো বিকল্প নেই।”
ড. মিলন বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু প্রচলিত নিয়মে পাঠদান করলে হবে না, বরং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের উপযোগী করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শিক্ষকদের শিক্ষাদান পদ্ধতি পাল্টাতে হবে। শিক্ষায় পরিবর্তন আনতেই হবে। প্লিজ, আপনাদের স্কুলে আপনাদের ছেলে-মেয়েদের পড়ান। আপনি কি মনে মনে করেন না, আপনি যোগ্য?”
তিনি বলেন, একজন শিক্ষক যদি নিজের সন্তানকে নিজের প্রতিষ্ঠানে পড়াতে আস্থা না পান, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের মান নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। তাই শিক্ষকদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ও দায়বদ্ধতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
Leave a Reply