সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে শুরুতে সব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনে (বেসিক) সমানভাবে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি দেওয়ার যে পরিকল্পনা ছিল, সরকার শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীদের মূল বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতনও বাড়ানো হবে, তবে সেই বৃদ্ধি নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় বিষয়টি না থাকলেও বিবিধ আলোচনার সময় নবম জাতীয় পে স্কেলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে মতবিনিময় হয়। সেখানে বিভিন্ন গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির হার এবং তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
আলোচনায় উঠে এসেছে, ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন যতটুকু বাড়ানোর প্রস্তাব থাকবে, তার ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছর থেকেই কার্যকর করা হতে পারে। অপরদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ প্রথম ধাপেই বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার।
এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি কিছুটা সীমিত রাখা হবে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য কিছুটা কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীরাই সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছেন। তাই নতুন পে স্কেল প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাদের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কারণেই ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নবম জাতীয় পে স্কেলের চূড়ান্ত কাঠামো কিংবা গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির হার এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আরও একাধিক দফা আলোচনা হবে। পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার মতামত নেওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে এবং সেই অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট এখনো জারি হয়নি। তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসায় এসব গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যদি এই নীতি বহাল থাকে, তাহলে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীরা আগের তুলনায় বেশি আর্থিক সুবিধা পাবেন এবং বেতন কাঠামোতেও কিছুটা ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে।
Leave a Reply