১১ দিন পর সচল হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যার, দ্রুত তথ্য ইনপুটের নির্দেশ
বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনলাইন বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি অবশেষে আবার সচল হয়েছে। টানা ১১ দিন বন্ধ থাকার পর আজ রোববার (২১ জুন) থেকে সফটওয়্যারটি পুনরায় কার্যকর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্র জানিয়েছে, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এখনো শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সফটওয়্যারে ইনপুট দিতে পারেননি, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য ইনপুটে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১ জুন থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের মাধ্যমে শিক্ষকদের তথ্য অনলাইন সফটওয়্যারে ইনপুট দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে ৯ জুন পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে তথ্য ইনপুট দেওয়া সম্ভব হলেও ১০ জুন থেকে হঠাৎ করেই সফটওয়্যারটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে সারাদেশের অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য আপলোড কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়াও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
পরে মাউশির পক্ষ থেকে জানানো হয়, একই সময়ে প্রায় এক লাখের বেশি ব্যবহারকারী সফটওয়্যারে প্রবেশের চেষ্টা করায় সার্ভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে সফটওয়্যারটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেলিটকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয় এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
মাউশির সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, সফটওয়্যারটি নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য প্রায় ৭ হাজার ১৬৮ জিবি (প্রায় ৭ টেরাবাইট) স্টোরেজ প্রয়োজন ছিল। কিন্তু প্রাথমিকভাবে টেলিটক মাত্র ২০০ জিবি স্টোরেজ বরাদ্দ দিয়েছিল। প্রয়োজনের তুলনায় এত কম স্টোরেজ থাকায় অতিরিক্ত ব্যবহারকারীর চাপ সামলাতে না পেরে সফটওয়্যারটির কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে টেলিটক প্রয়োজনীয় স্টোরেজ সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। স্টোরেজ সম্প্রসারণের কাজ শেষ হওয়ার পর আজ থেকে সফটওয়্যারটি আবারও সচল করা হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা এখন পুনরায় শিক্ষকদের তথ্য ইনপুট দিতে পারছেন এবং বদলি কার্যক্রমের স্থগিত থাকা প্রক্রিয়াও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
এর আগে গত ১৬ জুন এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেছিলেন, সফটওয়্যারটি সচল রাখতে প্রায় ৭ টেরাবাইট স্টোরেজ প্রয়োজন হলেও টেলিটক শুরুতে মাত্র ২০০ জিবি স্টোরেজ দিয়েছিল। এ কারণেই কারিগরি জটিলতা সৃষ্টি হয়। সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে টেলিটককে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং খুব দ্রুত সফটওয়্যারটি পুনরায় চালু করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। অবশেষে সেই জটিলতার সমাধান হওয়ায় ১১ দিন পর শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যার আবারও কার্যক্রম শুরু করেছে।
Leave a Reply