ছয় বছর পর আবারও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এর আগে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সারাদেশের সরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। করোনাভাইরাস মহামারির সময় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ভর্তিপ্রক্রিয়াকে সহজ করার লক্ষ্যে চালু হওয়া সেই পদ্ধতিই গত ছয় বছর ধরে অনুসরণ করা হচ্ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে আবারও ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘প্রাথমিকের ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে বলছি—এটি নামেমাত্র ভর্তি পরীক্ষা। এমন কোনো প্রশ্ন থাকবে না, যার জন্য শিশুদের কোচিং সেন্টারে যেতে হবে বা আলাদা প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সময়ে আমরা ক্যাচমেন্ট এরিয়ার ওপরও কাজ করছি। ক্যাচমেন্ট এরিয়া এবং ভর্তি পরীক্ষা—এই দুটি বিষয়কে সমন্বয় করে আসনসংখ্যা অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু তখন ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ছিল। আমরা সেই অভিজ্ঞতাগুলো পর্যালোচনা করছি। ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও ভর্তি পরীক্ষাকে সমন্বয় করে এমন একটি পদ্ধতি চালু করা হবে, যা শিশুদের জন্য চাপমুক্ত থাকবে। আপনারা আমাদের একটু সময় দিন। ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই এর বাস্তব রূপ দেখতে পাবেন।’
জানা গেছে, একসময় দেশের সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা ছিল শিক্ষার্থী নির্বাচনের প্রচলিত নিয়ম। সে সময় অল্প বয়সী শিশুদের কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হতো। ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। পাশাপাশি ভর্তি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগও ব্যাপকভাবে ওঠে।
এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি বাধ্যতামূলক করে। পরবর্তীতে একই ব্যবস্থা বেসরকারি বিদ্যালয়েও চালু করা হয়। এরপর ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হলে স্বাস্থ্যবিধি ও জনসমাগম এড়াতে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী বছরগুলোতেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
তবে দীর্ঘ ছয় বছর পর সরকার আবারও ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, এবারের ভর্তি পরীক্ষা হবে অত্যন্ত সহজ, শিশুদের জন্য চাপমুক্ত এবং ক্যাচমেন্ট এরিয়াভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত। ফলে অতীতের মতো কোচিংনির্ভর প্রতিযোগিতা বা অনিয়মের সুযোগ থাকবে না বলেই সরকারের প্রত্যাশা।
Leave a Reply