বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রত্যাশিত বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৈরি করা সফটওয়্যারটি সচল করতে প্রায় ৭ হাজার ১৬৮ গিগাবাইট বা প্রায় ৭ টেরাবাইট স্টোরেজ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। তবে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রাথমিকভাবে মাত্র ২০০ গিগাবাইট স্টোরেজ সরবরাহ করায় সফটওয়্যারটির কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে এবং একপর্যায়ে এটি অচল হয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) মাউশির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বদলি সফটওয়্যার পুনরায় সচল করার বিষয়ে টেলিটক কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে আশ্বাস দিলেও মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি অধিদপ্তরের কাছে পাঠায়নি। ফলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সফটওয়্যারটি চালুর যে সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছিল, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, টেলিটকের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত জবাব না পাওয়া পর্যন্ত সফটওয়্যার পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে না। এ কারণে বদলি কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) প্রফেসর খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, সফটওয়্যারটি স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রায় ৭ টেরাবাইট স্টোরেজ প্রয়োজন। কিন্তু টেলিটক শুরুতে মাত্র ২০০ গিগাবাইট স্টোরেজ প্রদান করেছিল। এ কারণে সার্ভার ও সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, “৭ টেরাবাইট স্টোরেজ দরকার। তবে টেলিটক ২০০ দিয়েছিল। সেজন্য কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে টেলিটককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই সফটওয়্যার সক্রিয় হবে।”
মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে সফটওয়্যারটি চালু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাউশি মহাপরিচালক জানান, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারবেন মাধ্যমিক শাখার উপ-পরিচালক মো. ইউনূছ ফারুকী।
পরে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মাউশির উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) মো. ইউনূছ ফারুকী বলেন, সফটওয়্যারের জন্য প্রয়োজনীয় স্টোরেজ বৃদ্ধি করতে টেলিটককে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেই চিঠির কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি। টেলিটকের উত্তর পাওয়ার পরই সফটওয়্যার পুনরায় চালুর সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করা যাবে।
তিনি বলেন, “স্টোরেজ বৃদ্ধির জন্য টেলিটককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে সেই চিঠির জবাব এখনো পাইনি। চিঠির জবাব পেলে সফটওয়্যার সক্রিয় হওয়ার সময়সীমা বলা যাবে।”
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১ জুন থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে নির্ধারিত সফটওয়্যারে শিক্ষকদের তথ্য ইনপুট দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ৯ জুন পর্যন্ত তথ্য ইনপুট দেওয়া সম্ভব হলেও ১০ জুন থেকে হঠাৎ করেই সফটওয়্যারটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
পরে মাউশি জানায়, একযোগে প্রায় এক লাখ হিট বা ব্যবহারকারীর চাপ পড়ায় সফটওয়্যারটি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি এবং এর কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও স্টোরেজ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য টেলিটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও পাঠানো হয়। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত সেই চিঠির কোনো জবাব না পাওয়ায় সফটওয়্যার পুনরায় চালুর বিষয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
ফলে বদলি কার্যক্রমে অংশ নিতে আগ্রহী হাজার হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং তথ্য ইনপুটের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা এখন টেলিটকের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও মাউশির পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
Leave a Reply