বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে কর্মরত শিক্ষকদের বদলির জন্য মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে। চলতি মাসে এ কার্যক্রম শেষে আগামী জুলাই মাস থেকে বদলি আবেদন শুরুর পরিকল্পনা করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বা মাউশি।
১ম ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য দিতে হবে। এজন্য হালনাগাদের ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো: শিক্ষার ধরন, শিক্ষার ধরন হতে পারে সহ-শিক্ষা, বালিকা, বালকের যেকোন একটি। অবস্থানের ধরন (শহর, মফস্বল)। ট্রেড সুবিধা (হ্যাঁ, না)। জেলা, উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব। শিফটের ধরন (সিঙ্গেল, ডাবল)। প্রাপ্যতা সাপেক্ষে বিষয়- বিভাগের তথ্য (এমপিও শিট, শিক্ষক-কর্মচারী বিবরণী, বিভাগ, শাখা, শিফট, বিষয় অনুমোদনের কপি, শিক্ষার্থীদেরটটলিস্ট, তালিকা, ট্রেড অনুমোদনের কপি, এনটিআরসিএ’র সুপারিশপত্র- এগুলোর পিডিএফ ফাইল আপলোড করে তথ্য আপডেট করুন ক্লিক করতে হবে।
এরপর ২য় ধাপে-পদ ও শূন্যপদের তথ্য দিতে হবে। বিষয় অনুসারে অনুমোদিত পদ এবং বর্তমান শূন্যপদ রেকর্ড করা হবে। এক্ষেত্রে শূন্যপদের তথ্য যোগ, হালনাগাদ করতে হবে। শূন্যপদের তথ্য যোগ, হালনাগাদ করতে প্রথমে পদ ও শূন্যপদ এ যান। এরপর পদের ধরন নির্বাচন করুন (যেমন, প্যাটার্নভুক্ত পদ)। তারপর ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন (যেমন, শিক্ষক)। এভাবে বিষয় নির্বাচন করুন (যেমন, গণিত, ইংরেজি, বাংলা)। মোট অনুমোদিত পদ (প্রদর্শিত, সম্পাদনযোগ্য নয়)। বর্তমান পূরণকৃত পদ লিখুন- এটা সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘শূন্যপদ’ গণনা করে। পরে ‘তালিকায় যুক্ত করুন’ অপশনটি ক্লিক করতে হবে।
এরপর আপনার সামনে একটি টেবিল প্রদর্শন করা হবে। সেই টেবিলে সমস্ত পদ ও শূন্যপদের তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে।
এরপর ৩য় ধাপ সামনে আসবে। এই ধাপে শিক্ষক, কর্মচারী তথ্য ইনপুট করতে বলা হয়। এক্ষেত্রে সমস্ত কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের সম্পূর্ণ রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।
তাই প্রতি শিক্ষক, কর্মচারীর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। এর মধ্যে ইনডেক্স নম্বর (সিস্টেম থেকে নির্বাচন করুন) সিস্টেম ডেটাবেস থেকে কিছু বিবরণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ করতে পারে।- নাম (বাংলা এবং ইংরেজি) – NID নম্বর, মোবাইল নম্বর, পুরুষ, মহিলা, নিয়োগের ধরন (কমিটি কর্তৃক, এনটিআরসিএ সুপারিশ), নিজ জেলা, নিজ উপজেলা, সমস্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র পূরণ করুন (* দিয়ে চিহ্নিত)। তারিখ সাবধানে লিখুন (ডেট পিকার ব্যবহার করুন)। ছবি এবং প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করুন।
‘তালিকায় যুক্ত করুন’ বাটনে ক্লিক করুন। এরপর আগের ধাপের মতোই একটি তালিকা আসবে। সেই তালিকায় শিক্ষক-কর্মচারী প্রদর্শিত হয় কিনা যাচাই করতে হবে।

মাউশির তথ্য বলছে, মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহের প্রথম ধাপে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের তথ্য ইনপুট দিতে হবে। আগামী ১০ জুনের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করতে হবে। এরপর জেলা শিক্ষা অফিস এবং আঞ্চলিক অফিস থেকে তথ্য যাচাই শেষে সেন্ট্রাল অর্থাৎ মাউশিতে পাঠাতে হবে।
এরপর ৪র্থ ধাপে স্বামী, স্ত্রীর কর্মস্থল সর্ম্পকে নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য দিতে হবে। শিক্ষকদের স্বামী, স্ত্রীর কর্মস্থল নথিভুক্ত করার জন্য এই তথ্য প্রয়োজন।
অনুসন্ধান পদ্ধতি সর্ম্পকে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে এই ধাপে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রথমে ‘স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল’ অপশনে এ যান। ‘সরকারি কর্মচারী’ ট্যাব নির্বাচন করতে হবে। স্বামী, স্ত্রীর ‘NID নম্বর’ লিখুন। ‘সার্চ করুন’ ক্লিক করুন। সিস্টেম সরকারি ডেটাবেস থেকে স্বামী, স্ত্রীর বিবরণ পুনরুদ্ধার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণকৃত তথ্য পর্যালোচনা করুন। ‘সংরক্ষণ করুন’ অপশনে ক্লিক করুন।
এরপর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য যেসব তথ্য দিতে হবে সেগুলো হলো: ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক’ ট্যাব নির্বাচন করুন। স্বামী, স্ত্রীর ‘ইনডেক্স নম্বর’ লিখুন। ‘প্রতিষ্ঠানের ধরন’ নির্বাচন করুন। ‘সার্চ করুন’ ক্লিক করুন। সিস্টেম এমপিও ডেটাবেস থেকে স্বামী, স্ত্রীর বিবরণ পুনরুদ্ধার করে তথ্য পর্যালোচনা এবং নিশ্চিত করুন ‘সংরক্ষণ করুন’ ক্লিক করুন।

গত ১৮ মে শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালা অনুযায়ী সফটওয়্যার আপডেট করে সেটি মাউশিকে অবহিত করা হয়। গত ১০ মে সংশোধিত বদলি নীতিমালা অনুযায়ী সফটওয়্যার আপডেট করতে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডকে চিঠি পাঠায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।
এরপর ৫ম ধাপে তথ্য যাচাই করার পালা। এ ধাপে সমস্ত তথ্য ইনপুট শেষ করার পরে, যাচাইয়ের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, উপ পরিচালক কলেজের কাছে পাঠাবেন। পাঠানোর আগে চেকলিস্ট আসবে।
আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে তথ্য ইনপুট সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে- ✓ প্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। ✓ কর্মরত সকলের রেকর্ড যোগ/হালনাগাদ করা হয়েছে। ✓ সমস্ত শূন্যপদ তথ্য লেখা হয়েছে। ✓ স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল তথ্য (প্রযোজ্য হলে)।
ধাপগুলো হলো: ‘কর্মরত শিক্ষক এবং কর্মচারীদের তথ্য যাচাই’ এ যান। সারসংক্ষেপ পর্যালোচনা করুন যা দেখায়: – মোট শিক্ষক, কর্মচারী। মোট শূন্যপদ। যাচাই অবস্থা।
তাদের অবস্থাসহ সমস্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের তালিকা দেখুন। কোনো অসম্পূর্ণ রেকর্ডের জন্য পরীক্ষা করুন (লাল, হলুদে চিহ্নিত)। কোনো মুলতুবি তথ্য লেখা সম্পূর্ণ করুন।
‘যাচাইয়ের জন্য প্রেরণ করুন’ বাটনে ক্লিক করুন। পপআপ ডায়ালগে জমা নিশ্চিত করুন।
সিস্টেম উপজেলা অফিসে তথ্য পাঠায়।
আপনি নিশ্চিতকরণ পাবেন: ‘সফলভাবে যাচাইয়ের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে’

গত ৬ মে স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির সংশোধিত নীতিমালা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশোধিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর কর্মে নিয়োজিত থাকার পর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূণ্যপদের চাহিদা বা বিবরণ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে প্রকাশ করবে।

প্রকাশিত শূন্য পদের বিপরীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষকদের আবেদন আহবান করবে। সমস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান বা একই বিষয়ের শিক্ষক সমপদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে প্রতি বৎসর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

আবেদনকারী শিক্ষক তার চাকরির আবেদনে উল্লেখকৃত নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যে কোন জেলায় বিদ্যমান শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন করতে পারবে।
এছাড়াও আবেদনকারী শিক্ষক স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল জেলায় (সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) বদলির আবেদন করতে পারবে। প্রথম যোগদানের পর চাকরি দুই বছর পূর্ণ হলে বদলির আবেদন করার জন্য যোগ্য হবেন।
এর আগে নীতিমালাটি অনুমোদন দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জারির পাশাপাশি নীতিমালাটি ওয়েবসাইটে আপলোডের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে এবং দ্রুতই তা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
Leave a Reply