আগামী ১ জুলাই থেকে দেশে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিশেষ করে বাড়িভাড়া ভাতা কোন বেতন স্কেলের ভিত্তিতে বৃদ্ধি পাবে—পুরোনো নাকি নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী—তা নিয়ে শিক্ষক সমাজে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সেই নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ীই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা শতকরা হারে বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। অর্থাৎ নতুন স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করেই বাড়িভাড়া ভাতা হিসাব করা হবে বলে তারা মনে করছেন।
তবে একই বিভাগের বাজেট শাখা এ বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট বা লিখিত ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। ফলে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির হার কার্যত কোন বেতন কাঠামোর ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা থেকেই গেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, জুলাই মাস থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্ধিত বাড়িভাড়া ভাতার সুবিধা পাবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে স্বাভাবিকভাবেই সেই স্কেল অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধি হওয়ার কথা। এ জন্য আলাদাভাবে নতুন কোনো প্রস্তাবনা দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। অর্থ মন্ত্রণালয় যে সম্মতিপত্র দিয়েছে, সেটিই নতুন পে-স্কেলের আলোকে বর্ধিত বাড়িভাড়া কার্যকরের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই মাস থেকেই ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে সেই অনুযায়ী বেতন-ভাতার প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং তীব্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২১ অক্টোবর তাদের বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মতি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। শিক্ষক সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক আন্দোলন, মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচির মুখে সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
সেদিন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা সম্মতিপত্রে বলা হয়, সরকারের বিদ্যমান বাজেট সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা দুই ধাপে বৃদ্ধি করা হবে।
সম্মতিপত্র অনুযায়ী, ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে মূল বেতনের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা কার্যকর করা হয়, যার সর্বনিম্ন পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা। পরবর্তী ধাপে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ওই ৭ দশমিক ৫ শতাংশের অতিরিক্ত আরও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়িভাড়া যুক্ত হবে। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা মোট মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন। তবে সর্বনিম্ন ভাতার পরিমাণ ২ হাজার টাকা বহাল থাকবে।
এ অবস্থায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে চূড়ান্তভাবে নতুন স্কেলের মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তারপরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্ধিত বাড়িভাড়া ভাতার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Leave a Reply