সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চললেও এতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কী ধরনের সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এ অবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার একটি অংশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ব্যয় করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ফলে সরকারের রাজস্ব ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে অতিরিক্ত বরাদ্দের পুরো অর্থ শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যবহার করা হবে না। এর আওতায় নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বেতন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়, পেনশনভোগীদের অতিরিক্ত সুবিধা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে বর্তমানে কয়েক লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী সরকার থেকে মাসিক বেতন-ভাতার সুবিধা পান। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এই শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতেও যৌক্তিক সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে বাজেট পরিকল্পনায় তাদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে যে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে, তা মোকাবিলায় সরকার ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নিতে চায়। এজন্য বেতন বৃদ্ধি, পেনশন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা খাতের মানবসম্পদ ব্যয়কে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টিও সেই পরিকল্পনার অংশ।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অনেক ক্ষেত্রে সেই হারে সুবিধা পান না, ফলে বেতন বৈষম্য তৈরি হয়। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে এই বৈষম্য কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জানা গেছে, নবম জাতীয় পে-স্কেলের খসড়া নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাস এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নতুন সুবিধা যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এ ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধার বিষয়টিও নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আলাদা কোনো বিশাল অতিরিক্ত বরাদ্দ না রেখে বিদ্যমান বাজেট কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করার পরিকল্পনা রয়েছে। থোক বরাদ্দ, অপ্রত্যাশিত ব্যয় খাত এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে এ অর্থ জোগান দেওয়া হতে পারে।
তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ঠিক কত শতাংশ বেতন বৃদ্ধি হবে কিংবা নতুন কোনো ভাতা যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন পে-স্কেলের আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ও কর্মচারীর আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থায় দক্ষ জনবল ধরে রাখা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে তাই নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য কী ধরনের সুবিধা চূড়ান্ত করা হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সবার।
Leave a Reply