বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত সহকারী শিক্ষকরা উচ্চতর বেতন স্কেল বা বিএড স্কেল পাওয়ার আবেদন করতে গিয়ে একটি জটিল সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় সাল না থাকায় অনেক শিক্ষক বাধ্য হয়ে ভুল সাল উল্লেখ করে আবেদন করেছেন। আবেদনের সময় ২০২৪ সালের পরিবর্তে ২০২৩ সাল নির্বাচন করায় এখন তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন—তাদের বিএড স্কেলের আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, বিএড স্কেলের জন্য নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বিজোড় মাসে আবেদন গ্রহণ করা হয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারেও নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী তথ্য হালনাগা/2026/06/13/bedscaleapplication/দ করা হয়। তবে সফটওয়্যারে ২০২৪ সাল যুক্ত হওয়ার আগেই অনেক শিক্ষক আবেদন করে ফেলেছেন। ফলে তাদের আবেদনে পাসের সাল হিসেবে ভুলবশত ২০২৩ সাল উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুল আবেদন করা কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএড স্কেল পাওয়ার জন্য প্রতি বিজোড় মাসে আবেদন করার সুযোগ থাকে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএড কোর্সের ক্ষেত্রে সময়সূচির ভিন্নতার কারণে অনেক সময় শিক্ষকদের নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। ২০২৪ সালের বিএড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে এবং সেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের ৭ মে। কিন্তু আবেদন করার সময় সফটওয়্যারে ২০২৪ সালের অপশন যুক্ত না থাকায় শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে ২০২৩ সাল নির্বাচন করেন।
শিক্ষকরা জানান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত এক বছরের মধ্যে বিএড কোর্স সম্পন্ন হলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সেশনজটসহ বিভিন্ন কারণে কোর্স সম্পন্ন করতে প্রায় দুই বছর সময় লেগে যায়। ফলে ফলাফল প্রকাশেও বিলম্ব হয়। এ অবস্থায় বিএড স্কেলের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষক বিপাকে পড়েন। ৩০ মে পর্যন্ত সফটওয়্যারে ২০২৪ সালের পাসের সাল যুক্ত না থাকায় এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত সহকারী শিক্ষকরা ২০২৩ সাল উল্লেখ করে আবেদন করেন। এখন তারা আশঙ্কা করছেন, ভুল সাল ব্যবহারের কারণে তাদের বিএড স্কেল অনুমোদন নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের বেসরকারি কলেজ শাখা-২ এর উপ-পরিচালক শফি মাহমুদ বলেন, যেসব শিক্ষক ভুলবশত আবেদন করেছেন, তাদের নিজ নিজ জেলা বা উপজেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয় বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী মাউশিকে অবহিত করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ২০২৪ সালের বিএড পরীক্ষা ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই পরীক্ষায় প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের মে মাসে বিএড স্কেলের জন্য প্রায় ৫ হাজার ১৪৯ জন শিক্ষক আবেদন করেছেন। তবে যেসব শিক্ষক ২০২৪ সালে পাস করার পরও সফটওয়্যারে ২০২৪ সাল না পেয়ে ভুলক্রমে ২০২৩ সাল নির্বাচন করেছেন, তাদের আবেদন ও বেতন স্কেল অনুমোদন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বিজোড় মাসে সহকারী শিক্ষকরা বিএড স্কেলের জন্য আবেদন করতে পারেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৩ সালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষকরা চলতি বছরের জানুয়ারি ও মার্চ মাসে তাদের প্রয়োজনীয় ফাইল ও আবেদন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। অন্যদিকে ২০২৪ সালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষকরা ২০২৬ সালের ৭ মে ফলাফল পাওয়ার পর মে মাসে আবেদন করার সুযোগ পান। যেহেতু মে মাসও একটি বিজোড় মাস, তাই অনেক শিক্ষক নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ৩০ মে আবেদন সম্পন্ন করেন।
কিন্তু তখনও সফটওয়্যারে ২০২৪ সালের অপশন যুক্ত না থাকায় তারা ২০২৩ সাল নির্বাচন করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে ৩১ মে সফটওয়্যারে ২০২৪ সাল যুক্ত করা হলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। এতে আবেদনকারী শিক্ষকরা আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং তাদের বিএড স্কেল অনুমোদিত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।
পঞ্চগড়ের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ভুক্তভোগী শিক্ষক তমাল হাসান এ বিষয়ে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের বিএড পরীক্ষা ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হয় এবং ৭ মে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলে বিজোড় মাস হিসেবে মে মাসেই আবেদন করতে হয়েছে। কিন্তু ৩০ মে পর্যন্ত সফটওয়্যারে ২০২৪ সালের অপশন না থাকায় বাধ্য হয়ে ২০২৩ সাল নির্বাচন করে আবেদন করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আবেদনের সময় সফটওয়্যারে ২০২৪ সাল না থাকায় ২০২৩ সাল দিয়েই আবেদন করতে হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পাসের সাল উল্লেখ করে আবেদন করতে হয়। কিন্তু সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে ভেবে আমরা এভাবে আবেদন করেছি। আমার মতো কয়েক হাজার শিক্ষক একই সমস্যার কারণে ভুল সনে আবেদন করেছেন। এখন আমাদের বিএড স্কেল হবে কি না, তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”
তমাল হাসানের মতো আরও অনেক শিক্ষক একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, সফটওয়্যারে সময়মতো সঠিক সাল যুক্ত না হওয়ায় তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে এখন বিএড স্কেল অনুমোদন পাওয়া নিয়ে হাজারো শিক্ষক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
Leave a Reply