এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি কার্যক্রমের জন্য তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের সার্ভার সক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সফটওয়্যারটির সার্ভার স্পেস বাড়ানোর কাজ চলছে এবং তা সম্পন্ন হলে দ্রুত সফটওয়্যারটি পুনরায় চালু করা হবে। এরপর শিক্ষকরা তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে পারবেন।
শুক্রবার (১২ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে বদলি সংক্রান্ত সফটওয়্যারটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সার্ভার সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ শেষ হলেই সফটওয়্যারটি আবার উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তখন সকল শিক্ষক-কর্মচারী নির্ধারিত তথ্য ইনপুট দিতে পারবেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বদলি সফটওয়্যারের সার্ভার স্পেস বৃদ্ধি এবং সিস্টেমটি সচল করার জন্য টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডকে একটি জরুরি চিঠি পাঠায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। চিঠিতে বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
সূত্র জানায়, ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬ (সংশোধিত)’ জারি করা হয়েছে। এই নীতিমালার আলোকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় একটি বিশেষ সফটওয়্যার তৈরি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।
নীতিমালা অনুযায়ী, সফটওয়্যারটির মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং পরবর্তীতে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এ উদ্দেশ্যে মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রমও শুরু হয়।
তবে তথ্য সংগ্রহ চলাকালে একপর্যায়ে বদলি সফটওয়্যারের সার্ভার হঠাৎ করে শাটডাউন হয়ে যায়। এর ফলে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে পারেননি এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্যও ইনপুট দেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে বদলি কার্যক্রমের জন্য তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয় এবং অনেক শিক্ষক-কর্মচারী উদ্বেগের মধ্যে পড়েন।
এ পরিস্থিতিতে মাউশি টেলিটককে নির্দেশনা দিয়ে জানিয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার স্বার্থে সফটওয়্যারটির সার্ভার স্পেস বৃদ্ধি করা জরুরি। একই সঙ্গে সফটওয়্যারটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশা প্রকাশ করেছে, সার্ভার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কারিগরি ত্রুটি সমাধানের কাজ শেষ হলে সফটওয়্যারটি পুনরায় চালু করা হবে এবং তখন শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্বিঘ্নে তাদের তথ্য জমা দিতে পারবেন।
Leave a Reply