বেসরকারি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিংবা ভবিষ্যতে নিয়োগপ্রত্যাশী সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদধারীদের জন্য নতুন করে নিয়োগযোগ্যতা, বেতন স্কেল ও গ্রেড নির্ধারণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের (ভোকেশনাল, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা টেকনোলজি এবং ডিপ্লোমা পর্যায়) পাশাপাশি বেসরকারি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর পরিশিষ্ট অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং বেতন কাঠামোয় সংশোধন আনা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রেড-১০-এ সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে নিয়োগ পেতে হলে প্রার্থীকে স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি, কৃষি অর্থনীতি, মৎস্য, পশুপালন, কৃষি প্রকৌশল, বনবিদ্যা, পরিবেশ বিজ্ঞান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, মৃত্তিকা বিজ্ঞান অথবা ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম)সহ নির্ধারিত বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। একইসঙ্গে প্রার্থীর ন্যূনতম তিন বছর মেয়াদি কৃষি ডিপ্লোমা অথবা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। এ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীরা গ্রেড-১০ অনুযায়ী নিয়োগ পাবেন এবং তাদের জন্য বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬,০০০ টাকা থেকে ৩৮,৬৪০ টাকা পর্যন্ত।
অন্যদিকে, গ্রেড-১১-এ সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীর উদ্ভিদবিদ্যা অথবা প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে এক্ষেত্রে শিক্ষাজীবনের ফলাফলের ক্ষেত্রেও একটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সমগ্র শিক্ষা জীবনে একটির বেশি তৃতীয় বিভাগ, তৃতীয় শ্রেণি কিংবা সমমানের জিপিএ/সিজিপিএ গ্রহণযোগ্য হবে না। এই যোগ্যতায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা গ্রেড-১১ অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। তাদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে ১২,৫০০ টাকা থেকে ৩০,২৩০ টাকা পর্যন্ত।
তবে গ্রেড-১১-এর যোগ্যতায় নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষক যদি বিএড ডিগ্রি অর্জন করে থাকেন, তাহলে তিনি গ্রেড-১০ অনুযায়ী বেতন-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর বয়স অনূর্ধ্ব ৩৫ বছর হতে হবে। তবে যেসব প্রার্থী ইতোমধ্যে ইনডেক্সধারী হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জারি করা এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদের নিয়োগ, যোগ্যতা এবং বেতন কাঠামো আরও সুস্পষ্ট ও যুগোপযোগী করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
Leave a Reply