বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় নতুন একটি জটিলতা সামনে এসেছে। দেশের বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো বদলি-সংক্রান্ত সফটওয়্যারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় লগইন ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড হাতে পায়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য সফটওয়্যারে আপলোড করতে পারেনি। এতে বদলির অপেক্ষায় থাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো আইডি ও পাসওয়ার্ড পায়নি, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের (ডিইও) কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় আইডি ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করতে হবে। এরপর ওই তথ্য ব্যবহার করে সফটওয়্যারে লগইন করে নির্ধারিত তথ্য জমা দেওয়া যাবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিটি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সংশ্লিষ্ট জেলার জন্য নির্ধারিত আইডি ও পাসওয়ার্ড পাঠানো হয়েছে। তাই আইডি-পাসওয়ার্ড না পাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথা নয়। যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো তা সংগ্রহ করতে পারেনি, তাদের দ্রুত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এরপর সফটওয়্যারে প্রবেশ করে চাহিদা অনুযায়ী তথ্য আপলোড করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, বদলি কার্যক্রমকে স্বচ্ছ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে সফটওয়্যারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ও আবেদন ব্যবস্থাপনা চালু করা হচ্ছে। তাই সব প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
জানা গেছে, গত ১৮ মে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য প্রণীত সংশোধিত বদলি নীতিমালার আলোকে সফটওয়্যার আপডেটের কাজ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাউশিকে অবহিত করে। এর আগে গত ১০ মে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সংশোধিত বদলি নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সফটওয়্যার হালনাগাদ করার জন্য টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারি করে। দীর্ঘদিনের দাবির পর প্রণীত এই নীতিমালায় বদলির ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশোধিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর সেখানে ন্যূনতম দুই বছর চাকরি সম্পন্ন না করা পর্যন্ত পুনরায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। অর্থাৎ ঘন ঘন বদলি রোধ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই এই শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা ও প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করবে। ওই প্রকাশিত শূন্যপদের বিপরীতে আগ্রহী শিক্ষকদের কাছ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন আহ্বান করা হবে।
এছাড়া সব স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান শিক্ষক বা একই বিষয়ের শিক্ষক পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে বদলির আবেদন গ্রহণ করা হবে। প্রতি বছর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই, বদলির আদেশ জারি এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী শিক্ষক প্রথমে তার চাকরির আবেদনে উল্লেখিত নিজ জেলার মধ্যে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। যদি নিজ জেলায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো পদ শূন্য না থাকে, তাহলে তিনি নিজের বিভাগের অন্য যেকোনো জেলার বিদ্যমান শূন্যপদের বিপরীতে বদলির আবেদন করতে পারবেন।
এছাড়াও পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা কিংবা স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল অবস্থিত জেলায় বদলির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রী সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান অথবা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে সেই জেলার শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে।
নীতিমালায় আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক প্রথম যোগদানের পর কমপক্ষে দুই বছর চাকরি সম্পন্ন করলে তবেই তিনি বদলির জন্য আবেদন করার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
এর আগে সংশোধিত এই বদলি নীতিমালার অনুমোদন দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নীতিমালাটি আনুষ্ঠানিকভাবে জারির পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে, যাতে শিক্ষকরা নীতিমালার বিস্তারিত বিধান সহজেই জানতে ও অনুসরণ করতে পারেন।
ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের পথ আরও একধাপ এগিয়ে গেলেও, যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো সফটওয়্যারের আইডি-পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করতে পারেনি, তাদের দ্রুত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য প্রদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
Leave a Reply