বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার তাদের বাড়িভাড়া ভাতা দুই ধাপে মোট ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ধাপে গত বছর থেকেই মূল বেতনের ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা কার্যকর করা হয়। আর পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুসারে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়িভাড়া বৃদ্ধি কার্যকর হচ্ছে। ফলে আগামী জুলাই মাস থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের সর্বমোট ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা বা জটিলতা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় ধাপের অতিরিক্ত সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা কার্যকরের সরকারি আদেশও জারি করা হয়েছে।
গতকাল রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাড়িভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নতুন কোনো বিষয় নয়। এটি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ বা জিও (গভর্নমেন্ট অর্ডার) গত বছরই জারি করা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীরা বাড়িভাড়ার বর্ধিত অংশ পাবেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যেখানে এ বিষয়ে সরকারি আদেশ জারি রয়েছে, সেখানে এ নিয়ে সংশয়ের কোনো কারণ থাকতে পারে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একজন কর্মকর্তাও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি জানান, জুলাই মাস থেকে শিক্ষকদের বাড়িভাড়া বৃদ্ধি পাওয়া গত বছরেরই একটি মীমাংসিত বিষয়। এটি নিয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের বিভ্রান্তি বা সংশয়ের খবর ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। কারণ বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারি আদেশ আগেই জারি করা হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই আগামী জুলাই মাস থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্ধিত হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন।
সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে জারি করা সরকারি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, অর্থ বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জারিকৃত চিঠির আলোকে বিদ্যমান বাজেটের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে বৃদ্ধি করার সম্মতি প্রদান করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা প্রদান করা হবে। তবে এই ভাতার সর্বনিম্ন পরিমাণ ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ১ জুলাই থেকে পূর্বে প্রদত্ত ৭ দশমিক ৫ শতাংশের অতিরিক্ত আরও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা কার্যকর হবে। এর ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের সর্বমোট ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাওয়ার অধিকারী হবেন। এ ক্ষেত্রেও সর্বনিম্ন ভাতার পরিমাণ ২ হাজার টাকা বহাল থাকবে।
সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন বেতনস্কেল প্রবর্তন করা হলে বর্তমানে প্রদত্ত এই অতিরিক্ত সুবিধা সেখানে সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সংশ্লিষ্ট জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার শর্তসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে— ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১’, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত)’ এবং ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (ভোকেশনাল, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, কৃষি ডিপ্লোমা ও মৎস্য ডিপ্লোমা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত)’। এছাড়া সরকার কর্তৃক সময় সময় জারি করা প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র, আদেশ ও নীতিমালার শর্তাবলিও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
সরকারি চিঠিতে আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কোনো ধরনের বকেয়া প্রাপ্য হবেন না। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের পূর্ববর্তী সময়ের জন্য অতিরিক্ত বাড়িভাড়া দাবি করা যাবে না। একই সঙ্গে বাড়িভাড়া ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে সকল আর্থিক বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত কোনো আর্থিক অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত ব্যয়ের ঘটনা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী কর্তৃপক্ষকে তার দায়ভার বহন করতে হবে।
সবশেষে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাওয়ার অধিকারী হবেন এবং পরবর্তী ধাপে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের সর্বমোট ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা প্রাপ্তির সুবিধা কার্যকর হবে। ফলে এ বিষয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা নেই এবং নির্ধারিত সময়েই শিক্ষক-কর্মচারীরা বাড়িভাড়ার বর্ধিত সুবিধা ভোগ করবেন।
Leave a Reply