এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতনের প্রস্তাব এখনো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি, চলতি সপ্তাহেই পাঠানোর সম্ভাবনা
দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই যে কোনো দিন এ সংক্রান্ত প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে।
সোমবার (১ জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শুরুর আগেই শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বিল জমা দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করার আগে কিছু প্রশাসনিক ও কারিগরি কাজ এখনো বাকি রয়েছে। এসব কাজ শেষ না হওয়ায় সোমবার পর্যন্ত বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো সম্ভব হয়নি। তবে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, “শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতনের প্রস্তাব এখনো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো সম্ভব হয়নি। কবে নাগাদ এ প্রস্তাব পাঠানো যাবে, সে বিষয়ে আগামীকাল (মঙ্গলবার) আরও স্পষ্টভাবে জানাতে পারবো।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য প্রতি মাসে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। প্রথমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন বিল অনলাইনের মাধ্যমে দাখিল করেন। এরপর এসব বিল যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বেতন-ভাতার অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার অর্থ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়। ফলে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে পারেন।
জানা গেছে, বর্তমানে সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও সময়মতো প্রদানের লক্ষ্যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিল দাখিল ও অনুমোদনের ব্যবস্থা চালু করেছে। এই অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বেতন প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম আগের তুলনায় আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর হয়েছে। পাশাপাশি বিল যাচাই, অনুমোদন এবং অর্থ ছাড়ের পুরো প্রক্রিয়াও এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হওয়ায় অনিয়মের সুযোগ কমেছে এবং দ্রুততার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।
তবে মে মাসের বেতনের প্রস্তাব এখনো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো না হওয়ায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বেতন পাওয়ার সময় নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রস্তাব পাঠানো সম্ভব হলে পরবর্তী অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত বেতন-ভাতা ছাড় করা যাবে।
Leave a Reply