জাল সনদের মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসায় কর্মরত ৬০ জন শিক্ষকের এমপিও বাতিলের সুপারিশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। একই সঙ্গে এসব শিক্ষক এতদিন বেতন-ভাতা হিসেবে সরকারের কাছ থেকে যে অর্থ গ্রহণ করেছেন, তা ফেরত নেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে জাল সনদ ব্যবহারকারী মোট ১১৪ জন শিক্ষকের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষক শনাক্ত হয়েছেন কাপাসিয়া উপজেলা থেকে।
গত রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনামূলক চিঠি জারি করা হয়। চিঠির তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাই-বাছাইয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের শিক্ষাগত সনদ জাল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী তাদের এমপিও সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাল সনদের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এসব শিক্ষকের এমপিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি তারা যে সরকারি অর্থ বেতন-ভাতা হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তা আদায়ের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইউবী গণমাধ্যমকে বলেন, জাল সনদ তৈরির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তির বাড়ি কাপাসিয়ায়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ওলামা লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। তার মতে, এ কারণেই কাপাসিয়ায় জাল সনদধারী শিক্ষকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া কাপাসিয়ার আশপাশের বিভিন্ন জেলার আরও কয়েকজন শিক্ষকও জাল সনদের অভিযোগে শনাক্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
Leave a Reply