1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ন
Title :
MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে পে স্কেল যে কারণে স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের স্পেন ও আর্জেন্টিনা মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি লাইভ দেখুন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বকেয়া বেতন কোনদিন পাবে জানাল মাউশি এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে জটিলতার আশংকায় এনটিআরসিএ এমপিও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য যে সময়ের মধ্যে যেভাবে হালনাগাদ করতে হবে পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন সমীকরণ

পে স্কেলের সুপারিশ কতটুকু কাটছাট, কতসালে পূর্ণবাস্তবায়ন এবং কতটাকা বরাদ্দ

  • Update Time : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ৩৪১ Time View
পে স্কেল

নবম পে-স্কেলের প্রথম ঘোষণায় বা প্রাথমিক সুপারিশে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বড় আশার সঞ্চার হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশে বেতন ও ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে পরবর্তীতে সরকার সেই সুপারিশের পুরোটা বাস্তবায়নের পথে না গিয়ে আংশিকভাবে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ উদ্দেশ্যে পুনরায় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। পরে সিদ্ধান্ত হয়, নবম পে-কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে কাটছাঁটের মাধ্যমে সীমিত আকারে তা কার্যকর করা হবে। বিএনপি সরকারের গঠিত সচিব কমিটি কমিশনের বিভিন্ন প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। সবশেষে তিন ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পুরো নতুন বেতন কাঠামো একবারে কার্যকর করা হবে না। বরং এটি তিনটি পৃথক অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেসিক বেতনের অর্ধেক অংশ পাওয়া শুরু করবেন। অর্থাৎ প্রথম ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অর্ধেক বেসিক কার্যকর করা হবে। আর ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নবম পে-স্কেলের আওতায় নির্ধারিত বিভিন্ন ভাতা, আনুষঙ্গিক সুবিধা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ধাপে ধাপে চালু করা হবে।

জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় বাজেটে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য ৩০ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ ‘থোক বরাদ্দ’ রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আগামী ৭ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে ওইদিন বেলা ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ওই দিনই পে-স্কেলের বরাদ্দ চূড়ান্ত হবে না। পরবর্তীতে আগামী ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপন করবেন। সেই বাজেট বক্তব্যেই নবম পে-স্কেলের বরাদ্দ এবং বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চূড়ান্ত তথ্য জানা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এদিকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি করা হবে। যদিও কী পরিমাণ বেতন বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগামী বাজেটেই নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। তবে সেটি কীভাবে এবং কোন কাঠামোয় বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। জানা গেছে, এবার প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হতে পারে।

পে-স্কেল সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পুরো নতুন বেসিক বেতন একবারে কার্যকর করতে হলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। কিন্তু বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা যেহেতু ১০ শতাংশ মহার্ঘভাতা পাচ্ছেন, তাই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সেই মহার্ঘভাতাকে সমন্বয় করা হবে। ফলে ৪৩ হাজার কোটি টাকার পরিবর্তে সরকারের প্রকৃত অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতোমধ্যে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই আগামী অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেসিক বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে। পরবর্তী ২০২৭-২০২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ বেসিক কার্যকর হবে। আর তার পরের অর্থবছরে বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ধাপে ধাপে চালু করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকার আগামী তিন বছরে ধাপে ধাপে এই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ শুরু থেকেই পূর্ণাঙ্গ নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আসছেন। উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বশেষ বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর নতুন পে-স্কেল কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, “আগামী বাজেটেই নতুন বেতন কাঠামো নিশ্চিত বাস্তবায়ন হবে। তবে সেটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।”

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার গঠিত উচ্চপর্যায়ের পুনর্গঠিত কমিটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

পে-স্কেল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে যে পে-কমিশন গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিশনের দেওয়া সুপারিশ বর্তমান সরকার পুনর্মূল্যায়নের জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করে। সম্প্রতি সেই কমিটি গোপনে তাদের পর্যালোচনা প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে জাকির আহমেদ খানের কমিশনের বেশ কিছু সুপারিশে কাটছাঁট করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে কমিশনের প্রস্তাবের অনেকাংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। একাধিক ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভাতা অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, সচিব এবং সমমর্যাদার কর্মকর্তারা বর্তমানে কুক, মালি ও গাড়ির জন্য যে পরিমাণ ভাতা পান, সেটি বাড়ানোর পক্ষে সচিব কমিটি মত দেয়নি। ফলে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ভাতায় তেমন বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে না।

এছাড়া জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল যে, নবম পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের মোট প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। কিন্তু সচিব কমিটির পুনর্বিবেচিত প্রতিবেদনে সেই ব্যয়ের পরিমাণ কমিয়ে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর যে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে, তা সামাল দেওয়ার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাজেটে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি এবং দেশের সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এককালীন পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিবর্তে তিন ধাপে তা কার্যকর করার কৌশল গ্রহণ করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হবে। দ্বিতীয় ধাপে পরবর্তী বছরে বাকি ৫০ শতাংশ মূল বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে। আর তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে সব ধরনের ভাতা, আনুষঙ্গিক সুবিধা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme