সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাহিদাকৃত তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। এ কারণে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় তথ্য পাঠানোর জন্য তাগাদা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
রোববার (২৪ মে) মাউশির পক্ষ থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিটি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
মাউশির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের গত ৬ মে জারি করা চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো মূল চিঠিতে বলা হয়েছিল, গত ১০ মার্চ ২০২৬ সাল থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি “২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি” যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও কর্মকৌশল প্রণয়ন করা হবে। সেই লক্ষ্যে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য পাঠাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়।
পরবর্তীতে কর্মসূচিটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থে কোথায় কোথায় বৃক্ষরোপণ করা হবে, সেই স্থানগুলোর জমির তফসিলসহ বিস্তারিত তথ্য পাঠানোর জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বিশেষভাবে বলা হয়েছিল, শিক্ষার্থীদের নিজ বাড়ি, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির সংস্থান সম্পর্কিত তথ্যও নির্ধারিত ছকের ৯ নম্বর কলামে উল্লেখ করতে হবে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, নির্ধারিত সময় অতিক্রম হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেনি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আবারও জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের আওতায় কোন কোন স্থানে বৃক্ষরোপণ করা হবে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমির তফসিলসহ সফট কপি ও হার্ডকপি আকারে পাঠাতে হবে। সফট কপি নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানা sas_s4@moedu.gov.bd-এ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হার্ডকপিও নিকষ ফন্টে প্রস্তুত করে যথাসময়ে পাঠানো নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। তাই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সময়মতো তথ্য প্রেরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
Leave a Reply