1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ন
Title :
MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে পে স্কেল যে কারণে স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের স্পেন ও আর্জেন্টিনা মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি লাইভ দেখুন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বকেয়া বেতন কোনদিন পাবে জানাল মাউশি এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে জটিলতার আশংকায় এনটিআরসিএ এমপিও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য যে সময়ের মধ্যে যেভাবে হালনাগাদ করতে হবে পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন সমীকরণ

এমপিও শিক্ষকদের জাল সনদের জন্য চাকুরী চলে যায়, আর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা জালিয়াতির জন্য পুরস্কার পায়

  • Update Time : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬
  • ১৫৪ Time View
ইউজিসি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তবে এই নিয়োগকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার বিরুদ্ধে ওঠা পুরোনো জার্নাল প্রকাশনার তারিখ জালিয়াতির অভিযোগ। একই বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেছেন, পদোন্নতি ও চাকরি স্থায়ীকরণে সুবিধা নিতে ড. মামুন একটি গবেষণা প্রবন্ধের প্রকাশনার তারিখ ও মেটাডেটা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন।

শনিবার (২৩ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নেছার উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ইউজিসির পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আদেশ, ১৯৭৩-এর সংশোধিত আইন, ১৯৯৮-এর ২(বি) ধারা অনুযায়ী তাকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে এই নিয়োগের খবর প্রকাশের পর আবার সামনে আসে তার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি স্থায়ীকরণ ও জ্যেষ্ঠতা ধরে রাখার জন্য তিনি একটি গবেষণা প্রবন্ধের প্রকাশনার তারিখ নিয়ে কারসাজি করেছিলেন। অভিযোগকারী ড. জাহাঙ্গীর আলম গত বছরের মার্চ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি উত্থাপন করেন। অভিযোগপত্রের সঙ্গে তিনি একাধিক নথি ও তথ্যপ্রমাণও জমা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক পদোন্নতির পর চাকরি স্থায়ী হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ডিওআই (ডিজিটাল অবজেক্ট আইডেন্টিফায়ার) সংবলিত জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করতে হয়। প্রার্থীর পদোন্নতির এক বছরের মধ্যেই ওই প্রকাশনা সম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক। এখানে জার্নালের ইস্যু বা ভলিউম নয়, বরং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনে ডিওআইসহ প্রকাশিত হওয়াই মূল বিষয়।

ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। সে অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তার ডিওআইসংবলিত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে তিনি কোনো প্রকাশিত প্রবন্ধ জমা দিতে পারেননি।

জানা গেছে, একই দিনে জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের আরও তিনজন শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান এবং একই সময়ে তাদের প্রবেশনকাল শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বিধি অনুযায়ী, যদি কোনো জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করতে ব্যর্থ হন, অথচ অন্যরা সফল হন, তাহলে ওই জ্যেষ্ঠ শিক্ষক পরবর্তীতে তাদের তুলনায় জুনিয়র হয়ে যান।

এই প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের ২৯ মে ড. মামুনের চাকরি স্থায়ীকরণ সংক্রান্ত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেখা যায়, তার প্রবন্ধ তখনও প্রকাশিত হয়নি। তিনি কেবল একটি জার্নালের অ্যাকসেপট্যান্স লেটার জমা দেন। ফলে স্থায়ীকরণ কমিটি তাকে বাকি দুই সহকর্মীর তুলনায় জুনিয়র ঘোষণা করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির পরই ড. মামুন একটি জার্নালের সম্পাদকের সঙ্গে যোগসাজশে নতুনভাবে একটি প্রবন্ধ অনলাইনে প্রকাশ করেন। অভিযোগে বলা হয়, “জার্নাল অব গভর্ন্যান্স, সিকিউরিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট” নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত ওই প্রবন্ধে প্রকাশনার তারিখ দেখানো হয় ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি। পরে সেই তথ্যে ভিত্তি করেই তিনি পুনরায় প্রবন্ধ জমা দেন এবং চাকরি স্থায়ী করার পাশাপাশি নিজের জ্যেষ্ঠতাও পুনরুদ্ধার করেন।

অভিযোগকারী ড. জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, পুরো ঘটনাটিই ছিল পরিকল্পিত জালিয়াতি। তিনি বলেন, যদি সত্যিই প্রবন্ধটি ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি অনলাইনে প্রকাশিত হয়ে থাকে, তাহলে ২০২৩ সালের ২৯ মে অনুষ্ঠিত স্থায়ীকরণ সভার আগেই সেটি কেন জমা দেওয়া হয়নি—এই প্রশ্নই প্রমাণ করে বিষয়টি সন্দেহজনক।

তিনি আরও দাবি করেন, জার্নালটির মেটাডেটা পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রবন্ধটির ডিওআই রেজিস্ট্রেশনের আবেদন করা হয় ২০২৩ সালের ১ জুন এবং একই দিনে সেটি অনলাইনে প্রকাশিত হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডিওআই পাওয়ার আগে কোনো প্রবন্ধকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিওআইসংবলিত অনলাইন প্রকাশনা হিসেবে দেখানো সম্ভব নয়। ফলে ১ জানুয়ারি প্রকাশিত দেখানো তথ্যটি বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ড. জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, ২০২৩ সালের ২৯ মে স্থায়ীকরণ কমিটির সভায় যখন ড. মামুন বুঝতে পারেন যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকাশিত প্রবন্ধ জমা দিতে না পারায় তিনি জুনিয়র হয়ে যাচ্ছেন, তখনই তিনি জালিয়াতির পথ বেছে নেন। পরবর্তীতে মেটাডেটা পরিবর্তনের মাধ্যমে আগের তারিখ দেখিয়ে প্রবন্ধটি উপস্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই জার্নালের হার্ড কপিতেও একই ডিওআই নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। তার মতে, ডিওআই নম্বর পাওয়ার পরই জার্নালটির মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে। তাই ডিওআই রেজিস্ট্রেশনের আগেই হার্ডকপি প্রকাশের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

বিষয়টি নিয়ে সে সময় জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. দিলরুবা শারমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি এ বিষয়ে আগে কিছু জানতেন না। তবে যেহেতু ড. জাহাঙ্গীর আলম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন, তাই বিষয়টি প্রশাসনই তদন্ত করবে।

অন্যদিকে, ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি অভিযোগকারী ড. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধেও নানা পাল্টা অভিযোগ তোলেন।

ড. মামুন বলেন, ড. জাহাঙ্গীর আলম নিজেও পদোন্নতির সময় একটি অগ্রহণযোগ্য জার্নালে প্রবন্ধ জমা দিয়েছিলেন। সে কারণে তাকে শাস্তিস্বরূপ অতিরিক্ত দুটি প্রবন্ধ জমা দিতে হয়েছিল। এছাড়া তিনি দাবি করেন, ড. জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামীপন্থি শিক্ষক ছিলেন এবং ৪ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা করেছিলেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে দূরে রাখে। পরে একাডেমিক কার্যক্রমে যুক্ত করা হলেও চেয়ারম্যান পদে তাকে রাখা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা প্রকাশনা জালিয়াতির অভিযোগ সম্পর্কে ড. মামুন বলেন, তার প্রবন্ধটি বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সিএনডি কমিটিতে পর্যালোচনা করা হয়েছিল এবং সেখানে অভিযোগকারী শিক্ষকও সদস্য ছিলেন। তাই এখন আবার নতুন করে অভিযোগ তোলার যৌক্তিকতা তিনি দেখেন না।

ড. মামুন আরও বলেন, একজন লেখকের কাজ হচ্ছে প্রবন্ধ জমা দেওয়া। ডিওআই নম্বর কোন সময়ে দেওয়া হবে, সেটি সম্পূর্ণভাবে জার্নাল কর্তৃপক্ষের বিষয়। তার দাবি, তার প্রবন্ধটি জানুয়ারিতেই অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছিল। হার্ডকপি প্রকাশ, অনলাইন প্রকাশ এবং ডিওআই সংযুক্ত হওয়ার বিষয়গুলো আলাদা বিষয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, এখানে কোনো তথ্য গোপন বা জালিয়াতির সুযোগ ছিল না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme