বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাল বা ভুয়া সনদ ব্যবহার করে চাকরির অভিযোগে ৬৩ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেন প্রশাসনিক ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে)সহ সম্প্রতি পৃথক পৃথক নোটিশের মাধ্যমে এই শোকজ জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাউশির জারি করা শোকজপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শাখা থেকে জাল বা ভুয়া সনদধারী ৪৭১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর একটি তালিকা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০২ জন, কলেজ পর্যায়ের ৬৪ জন এবং কারিগরি পর্যায়ের ৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর নাম রয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫” অনুযায়ী পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক পাঠানো জাল বা ভুয়া সনদধারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণের পর তা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে অবহিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শোকজপত্রে আরও বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো তালিকায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের নাম “অন্যান্য সনদ-৪০” ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ কারণে এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ১৮.১(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেন তাদের এমপিও সুবিধা বাতিল বা স্থগিত করা হবে না, কেন গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ বাতিলসহ অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সেই বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জবাব মাউশিতে জমা দিতে হবে।
শোকজ পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার জালসুকা হাবিবুর রহমান কলেজের সহকারী গ্রন্থাগারিক মো. আবদুর রাকিব, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার শাপলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পৌরনীতি ও সুশাসনের প্রভাষক মুহাম্মদ মোবারক হোসেন, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মাঝবাড়ী জাহানারা বেগম কলেজের সমাজবিজ্ঞানের প্রভাষক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, একই প্রতিষ্ঠানের হিসাববিজ্ঞানের প্রভাষক মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, গাজীপুরের সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস, টাঙ্গাইলের মেহেরুন্নেছা মহিলা কলেজের প্রভাষক মুক্তা রাণী দে এবং ময়মনসিংহের শাপলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রভাষক মো. হেলাল উদ্দীন।
এছাড়া বগুড়ার শেরপুর টাউন ক্লাব পাবলিক লাইব্রেরি মহিলা কলেজের প্রভাষক রাবেতা সুলতানা, ঠাকুরগাঁওয়ের মোসলেম উদ্দীন ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. সানাউল্লাহ, নওগাঁর কৃষ্ণপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সোহবুল হক, সিরাজগঞ্জের বাহিকা কলেজের প্রভাষক মো. ফিরোজুর রহমান, কুড়িগ্রামের মজিদা আদর্শ কলেজের প্রভাষক মনোয়ারা খাতুন এবং একই কলেজের ইফফাত আরা সরকারের নামও শোকজপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছে।
মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাল সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সরকারের চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সারা দেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শত শত শিক্ষক-কর্মচারীর সনদ যাচাই কার্যক্রম চলছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে এমপিও বাতিল, চাকরি স্থগিত বা নিয়োগ বাতিলসহ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শোকজের চিঠি প্রাপ্ত শিক্ষকদের তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন
Leave a Reply