1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
Title :
MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে পে স্কেল যে কারণে স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের স্পেন ও আর্জেন্টিনা মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি লাইভ দেখুন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বকেয়া বেতন কোনদিন পাবে জানাল মাউশি এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে জটিলতার আশংকায় এনটিআরসিএ এমপিও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য যে সময়ের মধ্যে যেভাবে হালনাগাদ করতে হবে পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন সমীকরণ

পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বাস্তবায়ন কমিটি যে যে সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করল

  • Update Time : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ২৫৪ Time View
পে স্কেল

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রম। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার গঠিত পুনর্গঠিত কমিটি। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম পে স্কেল কার্যকর করার বিষয়ে সরকার তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি-এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সার্বিক অগ্রগতি, আর্থিক সক্ষমতা এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেও সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ।

সূত্র জানিয়েছে, নবম পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। এই অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিশেষ আর্থিক সংস্থান রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাজেটে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ ‘থোক বরাদ্দ’ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থ বিভাগ মনে করছে, এই বরাদ্দের মাধ্যমে ধাপে ধাপে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রাথমিক চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি এবং দেশের সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এককালীনভাবে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে না। পরিবর্তে একটি কৌশলগত পরিকল্পনার আওতায় এটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছর থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের বা বেসিকের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে পরবর্তী বছরে বাকি ৫০ শতাংশ বেসিক বৃদ্ধি যুক্ত করা হবে। এরপর তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে বাড়তি ভাতা, আনুষঙ্গিক সুবিধা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাগুলো সম্পূর্ণরূপে চালু করা হবে।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতির লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতা থেকেই নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে নবম পে স্কেলের বিভিন্ন টেকনিক্যাল, আর্থিক ও প্রশাসনিক দিক বিশ্লেষণ করে সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা পৃথক তিনটি বিশেষ কমিটি তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।

উপস্থাপিত তিনটি প্রতিবেদনের মধ্যে দুটি প্রতিবেদনের ওপর বিস্তারিত আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব প্রতিবেদনে মূলত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন স্তরের বেতন কাঠামোর পুনর্বিন্যাস, ভাতা সংক্রান্ত বিষয় এবং জাতীয় বাজেটের সঙ্গে আর্থিক সামঞ্জস্যতা নিয়ে সুপারিশ তুলে ধরা হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন। তবে তৃতীয় প্রতিবেদনটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি। সেটি কমিটির পরবর্তী বৈঠকের এজেন্ডাভুক্ত করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেলকে বাস্তবসম্মত, সুষম এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর করতে সরকার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও কয়েকটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগলেও আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম পে স্কেল কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রয়েছে।

ইতোমধ্যে সরকার নবম পে স্কেলের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রণয়ন এবং পূর্ববর্তী সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের পুনর্গঠিত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি পূর্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-এর সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করছে। পুরো কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। অন্যদিকে অর্থ বিভাগ কমিটিকে সার্বিক প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক সহায়তা দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, নতুন পে স্কেলের সব ধরনের আইনি, প্রশাসনিক ও আর্থিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ফলে পূর্ণাঙ্গ সরকারি গেজেট প্রকাশ আগস্ট কিংবা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে এ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও নতুন স্কেল কার্যকর ধরা হবে আগামী ১ জুলাই থেকে। অর্থাৎ পরে প্রজ্ঞাপন জারি হলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই সময় থেকে হিসাব করে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ বা এরিয়ার সুবিধা পাবেন।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আর্থিক বাস্তবতাকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব সক্ষমতা এবং দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই দুই দিকের মধ্যে একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme