জাল শিক্ষক শনাক্তের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নতুনভাবে কাজ শুরু করেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। একইসঙ্গে জাল শিক্ষক শনাক্তে প্রযুক্তিনির্ভর সফটওয়্যারও তৈরি করা হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় একদিনে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জাল শিক্ষক নিয়োগের ঘটনা বহু বছর ধরে ঘটে এসেছে। ফলে এখন বিষয়টি চিহ্নিত ও প্রতিরোধ করতে সরকারকে ধাপে ধাপে এগোতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ডিআইএ নতুন কৌশলে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সফটওয়্যারভিত্তিক ডাটাবেজ ও যাচাইকরণ পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে অযথা সময় নষ্ট যেন না হয়, সে বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কোনো শিক্ষার্থী যেন প্রশাসনিক জটিলতা বা নীতিগত দুর্বলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের বাইরে পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু শিক্ষা বোর্ডের ওপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে কোনো শিক্ষার্থীর জীবন থেকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দুই বছর নষ্ট না হয়। এ লক্ষ্যে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কোচিং সেন্টার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোচিং সেন্টারকে স্বীকৃতি দেয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত হয়। তাই এগুলো পুরোপুরি বন্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার্থে প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরেই ইনহাউজ কোচিং বা অতিরিক্ত পাঠদান কার্যক্রম চালুর চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় এক মাসের জন্য অনেক স্কুলে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এ সমস্যাটিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। পরীক্ষাকেন্দ্র সংকট এবং শ্রেণিকক্ষ ব্যবহারের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় স্কুল বন্ধ রাখতে হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় মাল্টিপারপাস ক্লাসরুম নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব বহুমুখী শ্রেণিকক্ষ ভবিষ্যতে পরীক্ষা পরিচালনা ও নিয়মিত ক্লাস একসঙ্গে চালাতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, খাতা মূল্যায়নের মান আরও উন্নত করতে হবে। বর্তমানে দক্ষ পরীক্ষকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকায় মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তাই পরীক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মূল্যায়ন পদ্ধতিকে আরও নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়েও সরকার ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রতিদিনই বিভিন্ন পর্যায়ে এ নিয়ে কাজ চলছে। যদিও দেশে প্রয়োজনের তুলনায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংখ্যা এখনও কম, তারপরও বিকল্প ভেন্যু ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতের সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয়, তবে সরকার ধাপে ধাপে প্রতিটি সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে কাজ করছে।
Leave a Reply