৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ১১০০ শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, যোগদানের পর থেকে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তারা এখনো বেতন পাননি। সম্প্রতি শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চিঠির বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বকেয়া বেতন সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদ্যমান এমপিও নীতিমালা-২০২১ অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষকদের বকেয়া বেতন প্রদানের কোনো সুযোগ নেই। ফলে নীতিমালার সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষকদের বকেয়া বেতন প্রদান করা বর্তমানে সম্ভব হচ্ছে না। তবে একই সঙ্গে অধিদপ্তর তাদের চিঠিতে এটিও উল্লেখ করেছে যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলে বিশেষ বিবেচনায় শিক্ষকদের বকেয়া বেতন প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষকদের বকেয়া বেতন সংক্রান্ত কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠি তারা হাতে পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, যদি অধিদপ্তর সরাসরি ইতিবাচক সুপারিশ করত, তাহলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হতো। কিন্তু চিঠিতে যেহেতু এমপিও নীতিমালার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই বকেয়া বেতন অনুমোদনের সম্ভাবনা বর্তমানে কিছুটা কমে গেছে। এরপরও বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হবে এবং একটি সভার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া প্রায় এক হাজার ১০০ শিক্ষক যোগদানের দিন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বেতন পাননি। দীর্ঘদিন ধরে তারা আন্দোলন, মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও এখনো পর্যন্ত তাদের দাবির পক্ষে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এতে করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা নিজেদের চরম বৈষম্যের শিকার বলে দাবি করছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, একই সময়ে সুপারিশপ্রাপ্ত অন্যান্য শিক্ষকরা যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। অথচ তারা দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকলেও এখনো বেতন থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাদের মতে, এটি স্পষ্ট বৈষম্যের উদাহরণ এবং একজন শিক্ষক হিসেবে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধসহ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী বলেন, শিক্ষকদের আন্দোলনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অধিদপ্তর থেকে ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শিক্ষা মন্ত্রণালয় গ্রহণ করবে।
Leave a Reply