কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন দেশের ১২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থার আওতায় বেতন-ভাতা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য আপডেট সম্পন্ন না হলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১ জুনের মধ্যে টেমিস (TEMIS) সফটওয়্যারে সকল তথ্য হালনাগাদ না করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
সম্প্রতি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক-১১ মো. সাইফুল হক খান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে তথ্য হালনাগাদ না করা ১২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, বহুবার নির্দেশনা দেওয়ার পরও এসব প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত টেমিস সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠানের তথ্য আপডেট, রেজিস্ট্রেশন এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন করেনি।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সংযুক্ত তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের ইএফটি পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। সরকার ধাপে ধাপে ম্যানুয়াল এমপিও শিট বাতিল করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন প্রদান কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আগামী জুন ২০২৬ মাস থেকে ম্যানুয়াল এমপিও শিট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তর আরও জানায়, এই পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের জটিলতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১ জুনের মধ্যে টেমিস সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠানের তথ্য আপডেট, রেজিস্ট্রেশন এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের সকল তথ্য হালনাগাদ নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান ব্যাহত হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে কঠোর সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ও তথ্য হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে উদ্ভূত যেকোনো বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতার দায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে। এ ধরনের সমস্যার জন্য কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কোনো দায়ভার গ্রহণ করবে না বলেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদান ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে ইএফটি পদ্ধতি চালু করেছে। কিন্তু এখনো যেসব প্রতিষ্ঠান তথ্য হালনাগাদ করেনি, তাদের কারণে পুরো কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য আপডেট সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এখানে ক্লিক করুন
Leave a Reply