এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতন এবং আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার উৎসব ভাতার বিল দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সোমবার (১১ মে) মাউশির ইএমআইএস সেল থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের আগামী ১৩ মের মধ্যে ইএমআইএস সিস্টেমের ‘MPO-EFT’ মডিউলে প্রবেশ করে মে মাসের বেতন ও ঈদ উৎসব ভাতার বিল সাবমিট করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিল দাখিলের কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মাউশি আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। ফলে বিল প্রক্রিয়াকরণে কোনো ধরনের ভুল বা অসঙ্গতি এড়াতে তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিজস্ব নির্ধারিত আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সিস্টেমে লগ-ইন করতে হবে এবং প্রতিটি শিক্ষক-কর্মচারীর প্রাপ্য বেতন ও ভাতার পরিমাণ পৃথকভাবে নির্ধারণ করে বিল সাবমিট করতে হবে।
এছাড়া কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী যদি মৃত্যুবরণ করে থাকেন কিংবা চাকরি থেকে পদত্যাগ করে থাকেন, তাহলে বিধি অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য অর্থ নির্ধারণ করে সেই তথ্যও সঠিকভাবে বিলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
অন্যদিকে, কোনো শিক্ষক-কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত থাকলে, বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকলে অথবা অন্য কোনো কারণে তার বেতন কর্তন বা বন্ধ রাখার প্রয়োজন হলে, সেটিও বিল সাবমিটের সময় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
যেসব শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা রয়েছে কিন্তু চলতি মাসে তারা নিয়মিত বেতন পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের ক্ষেত্রে ‘আংশিক পেমেন্ট’ অপশন ব্যবহার করে বিল সাবমিট করার নির্দেশ দিয়েছে মাউশি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ইএফটি পদ্ধতিতে অর্থ ছাড় করা হবে। ফলে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর বর্তাবে।
যদি ভুল তথ্যের কারণে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করেন, তাহলে সেই অতিরিক্ত টাকা নির্ধারিত কোড নম্বর (১০৯০১০১১০১৪৩৫-১৪৪১২০২) ব্যবহার করে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে জমা দেওয়া চালানের মূল কপিও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মাউশি জানিয়েছে, বর্তমানে শুধুমাত্র আইবাস (iBAS) সিস্টেমে যাচাইকৃত বা ভ্যালিড জনবলের তথ্যই বিল সাবমিট অপশনে প্রদর্শিত হচ্ছে। যেসব শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্যে এখনো ত্রুটি বা অসঙ্গতি রয়েছে, তা সংশোধনের পর পরবর্তীতে বিল সাবমিট করার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply