বাজেট ঘাটতি, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থার জটিলতা এবং প্রশাসনিক কিছু সমস্যার কারণে মে মাসের বেতন নির্ধারিত সময়ে পাননি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চলতি মাসে তারা একসঙ্গে মে ও জুন—দুই মাসের বেতন-ভাতা পেয়েছেন। তবে আগামী জুলাই মাসের বেতন যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাদের হাতে পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বশীল এক শীর্ষ কর্মকর্তা মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বলেন, মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। গত দুই মাসে বিভিন্ন কারণে বেতন বিতরণে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় এবার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “গত দুই মাসে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এবার আমরা শুরু থেকেই বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে সময়মতো জুলাই মাসের বেতন পান, সে লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখা হয়েছে।”
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শেষ করা হয়েছে। বর্তমানে শুধু মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা চিঠির অপেক্ষায় রয়েছে মন্ত্রণালয়। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চিঠি পাওয়া মাত্রই দ্রুততম সময়ের মধ্যে জুলাই মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ ছাড় করার কার্যক্রম শুরু হবে।
তার ভাষ্য, “আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। এখন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠি পেলেই দ্রুত অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্ট মাসের প্রথম দিকেই শিক্ষক-কর্মচারীরা জুলাই মাসের বেতন-ভাতা হাতে পাবেন বলে আমরা আশা করছি।”
উল্লেখ্য, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের মে ও জুন মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চেক চলতি বছরের ৭ জুলাই ছাড় করা হয়। পরদিন ৮ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ওই অর্থ উত্তোলন করতে সক্ষম হন।
এর আগে, জনতা ব্যাংকে হিসাবধারী এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ ছাড় দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে গত ৩০ জুন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অর্থ) ড. কে এম শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, গত কয়েক মাসে বাজেট বরাদ্দের জটিলতা, ইএফটি ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং অর্থ ছাড়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে বেতন বিতরণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
Leave a Reply