শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও শিক্ষকতার মর্যাদা বৃদ্ধিকে সামনে রেখে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। নতুন অর্থবছরের বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতে ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে ৪২ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে। দুই খাত মিলিয়ে মোট বরাদ্দ দাঁড়াবে ৯২ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় এ বরাদ্দ ৯ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা বেশি হতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য ব্যয়সীমার মধ্যে শিক্ষা খাতকে এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ব্যয়ের ১০টি খাতের জন্য মোট ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হবে। অথচ চলতি অর্থবছরে এসব খাতে মোট বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। সেই হিসেবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে মোট বরাদ্দ বাড়ছে ৩০ হাজার ১৭০ কোটি টাকা।
এই বরাদ্দ তালিকায় সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। আগামী অর্থবছরে এ বিভাগের জন্য ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে। বর্তমানে চলমান অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৪৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। ফলে নতুন অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে অতিরিক্ত ২ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা বাড়ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও বাড়তি বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকার শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষকতার মানোন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পাঠদানের মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই এ বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে।
Leave a Reply