বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতার অর্থ ইতোমধ্যে চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসে পাঠানো হয়েছে। এখন ওই অফিস থেকে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংক–এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাব নম্বরে টাকা পাঠানো হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেল সূত্রে জানা গেছে, চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আজ দুপুরের মধ্যেই বৈশাখী ভাতার প্রস্তাব অনুমোদন পাবে। যদি নির্ধারিত সময়ে অনুমোদন সম্পন্ন হয়, তাহলে আজ সন্ধ্যার মধ্যেই অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর অ্যাকাউন্টে ভাতার অর্থ পৌঁছে যেতে পারে।
তবে এর আগে মাউশি থেকে জানানো হয়েছিল, রবিবারের মধ্যেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের অ্যাকাউন্টে বৈশাখী ভাতা জমার এসএমএস পেয়ে যাবেন। বাস্তবে তা কিছু ক্ষেত্রে বিলম্বিত হওয়ায় এখন বলা হচ্ছে, কারও কারও ক্ষেত্রে সোমবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। একই সঙ্গে নতুন করে শোনা যাচ্ছে, আজ দুপুরে চিফ অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বা উৎসব ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায়, নানা ধাপ ও নতুন নতুন জটিলতা বা “অদৃশ্য চরিত্র” সামনে আসে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে কিছুটা অদ্ভুত ও অনিশ্চিত করে তোলে। যদিও এই ধাপগুলো কেবল শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যই তৈরি—এমন নয়, তবুও বাস্তবে তাদের ভাতা প্রাপ্তির সঙ্গে এসব জটিলতা বিশেষভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে এবং বিষয়টি বারবার আলোচনায় আসে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা আশা করছি আজই শিক্ষক-কর্মচারীরা বৈশাখী ভাতার মেসেজ পাবেন। কোনো কারণে আজ না হলে আগামী বুধবারের মধ্যে তারা অবশ্যই ভাতার টাকা পেয়ে যাবেন।’
জানা গেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা বাবদ মোট ১৮১ কোটি ৩৬ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২৯ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ২৭৬ টাকা এবং কলেজ পর্যায়ের জন্য ৫২ কোটি ৯ লাখ ৬২ হাজার ১১২ টাকা।
প্রসঙ্গত, প্রতি মাসে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মাধ্যমে পাঠানো হয়। অনলাইনে বিল দাখিলের পর তা যাচাই-বাছাই করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সবশেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রেরণ করে।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও নির্ভুলভাবে প্রদানের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন পদ্ধতি চালু করেছে। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং বেতন-ভাতা প্রক্রিয়াকরণ এখন আগের তুলনায় আরও সহজ ও কার্যকর হয়েছে।
Leave a Reply