বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতোমধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত সেই বেতনের তথ্য সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম আইবাসে (iBAS++) দৃশ্যমান হয়নি, যার কারণে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কিছুটা অপেক্ষার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দেশে পৌনে চার লাখেরও বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর মার্চ মাসের বেতনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে। তবে এই অনুমোদনের পরবর্তী ধাপে আইবাস সিস্টেমে বেতনের তথ্য প্রদর্শিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আইবাসে তথ্য আপডেট হওয়ার পরই সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করা হয় এবং সেখান থেকেই বেতন বিতরণের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়ে মাউশির পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, মার্চ মাসের বেতনের প্রস্তাব ইতোমধ্যেই অনুমোদন পেয়েছে। এখন লক্ষ্য হচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের হাতে বেতনের অর্থ পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
জানা গেছে, প্রতি মাসেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। এরপর অনলাইন বিল দাখিল করা হলে তা পর্যায়ক্রমে যাচাই-বাছাই করা হয়। এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতনের অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সর্বশেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রেরণ করে থাকে।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিল দাখিল ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া চালু করেছে। এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছ, দ্রুত এবং জবাবদিহিমূলক হয়েছে, যা শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Leave a Reply