1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন
Title :
MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে পে স্কেল যে কারণে স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের স্পেন ও আর্জেন্টিনা মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি লাইভ দেখুন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বকেয়া বেতন কোনদিন পাবে জানাল মাউশি এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে জটিলতার আশংকায় এনটিআরসিএ এমপিও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য যে সময়ের মধ্যে যেভাবে হালনাগাদ করতে হবে পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন সমীকরণ

৭৩৯ জাল সনদধারীর কাছে সরকারের পাওনা কত টাকা জানাল ডিআইএ

  • Update Time : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৫৯ Time View
৭৩৯ জাল সনদধারীর কাছে সরকারের পাওনা কত টাকা জানাল ডিআইএ

কুমিল্লার বড়ুরা উপজেলার বাতাইছড়ি উচ্চবিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন মোহাম্মদ আক্তার হোসেন। তবে তার নিয়োগের সময় জমা দেওয়া কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সনদটি যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে সেটি জাল। এ কারণে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) তার বিরুদ্ধে বেতন-ভাতা বাবদ আদায় করা প্রায় ৩০ লাখ ৮০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

একই ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার হযরত শাহজালাল (রা.) উচ্চবিদ্যালয়ের গণিতের সহকারী শিক্ষক মো. নাজিম উদ্দিনের ক্ষেত্রেও। ২০২৫ সালের ২৯ মার্চ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাই করলে সেটিও জাল বলে প্রমাণিত হয়। ফলে তার কাছ থেকে সরকারকে দেওয়া বেতন-ভাতার প্রায় ২২ লাখ টাকা আদায়যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে ডিআইএ।

এই দুইটি ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি বৃহৎ অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে। ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশের ৭ হাজার ৩৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ডিআইএ মোট ৭৩৯ জন জাল সনদধারী শনাক্ত করেছে। এসব ব্যক্তির কাছ থেকে সরকারের পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকা। একই সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে বা সংশ্লিষ্ট অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত ২১৮৬ একর জমি বেহাত হওয়ার ঘটনাও উঠে এসেছে। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন চালিয়ে দেওয়া প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত পাঁচ বছরে ডিআইএ মোট ৮ হাজার ১৮টি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এর মধ্যে ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ৭ হাজার ৯৮টি প্রতিবেদন পাঠানো হয়। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ৭৩৬টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে আরও ১ হাজার ৮২টি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ৮৬টি জাল সনদ শনাক্ত করা হয় এবং সরকারের আদায়যোগ্য অর্থ নির্ধারণ করা হয় ৪৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি। পরবর্তী অর্থবছর ২০২২-২৩-এ পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। সে সময় জাল সনদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৭টিতে এবং আদায়যোগ্য অর্থ এক লাফে বেড়ে ৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকায় পৌঁছে। যদিও ওই বছরে পরিদর্শনের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ২০৯টি হয়, তবে প্রতিবেদন কমে ১ হাজার ৩৪৯টিতে নেমে আসে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ডিআইএর পরিদর্শন কার্যক্রম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে, যেখানে ২ হাজার ৩৫৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এই সময়ে ১০৫টি জাল সনদ শনাক্ত হয় এবং প্রায় ৮৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা আদায়যোগ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যদিও পরিদর্শনের সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল, তবুও প্রতিবেদন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৮৩২টিতে। একই সময়ে সর্বোচ্চ ২৭৪টি জাল সনদ শনাক্ত হয় এবং আর্থিক অনিয়মও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছে ১৯৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আদায়যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই আরও ১৪৭টি জাল সনদ শনাক্ত হয়েছে, ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩৯-এ। পূর্ববর্তী চার বছরে প্রায় ৪১৯ কোটি টাকা আদায়যোগ্য হিসেবে নির্ধারিত হলেও চলতি বছরে আরও ১১৫ কোটি টাকা যোগ হওয়ায় মোট পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৫৩৪ কোটিতে দাঁড়িয়েছে।

শুধু আর্থিক অনিয়মই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি বেহাত হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনক। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ১৯৯ একর জমি বেহাত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭১২টি প্রতিষ্ঠান তদন্ত করে ৬৫৭ একর জমি প্রভাবশালীদের দখলে থাকার তথ্য উঠে আসে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২ হাজার ৩৫৫টি প্রতিষ্ঠানে তদন্ত করে ২৩২ একর জমি দখলের তথ্য পাওয়া যায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ হাজার ২০৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৬৫ একর জমি এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৩৮ একর জমি বেহাত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

বিভিন্ন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। রাজধানীর মধুবাগ এলাকায় অবস্থিত শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১ দশমিক ৪৬ একর জমি বেহাত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের এক পাশে সড়ক থাকলেও বাকি তিন পাশে বহুতল আবাসিক ভবন গড়ে উঠেছে। শান্তিনগরের নয়াটোলা এ ইউ এন মডেল কামিল মাদ্রাসার ক্ষেত্রেও অনুমোদনের সময় ৯৩ শতাংশ জমি দেখানো হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৭১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। যাত্রাবাড়ীর মান্নান হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুমোদনের সময় ৫৯ দশমিক ২৮ শতাংশ জমি খারিজ করা হলেও পরে আরও ২৬ দশমিক ৪০ শতাংশ জমি কেনা হয়। কিন্তু সর্বশেষ পরিদর্শনে ৮৪ দশমিক ৯০ শতাংশের বদলে মাত্র ৩০ শতাংশ জমির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, বাকি জমির কোনো হদিস মেলেনি।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কে কে টি হাজী এন সি ইনস্টিটিউটের ক্ষেত্রেও জমি কমে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২৭ বছর আগে পরিদর্শনে যেখানে জমির পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৩৯ একর, ২০২২ সালের পরিদর্শনে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪০ একরে। একইভাবে ঢাকার গেন্ডারিয়ার শ্যামপুরে অবস্থিত ফজলুল হক মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার সময় ২ দশমিক ৩২ একর জমি থাকলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ০৫ একর, অর্থাৎ এক একরের বেশি জমি বেহাত হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিআইএর পরিচালক প্রফেসর এম. এম সহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জনবল সংকটসহ নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিয়মিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে জাল সনদ ও জমি বেহাত হওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme