সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবি নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে আবারও আন্দোলনের গতি বাড়ছে। এ দাবিকে সামনে রেখে দুটি আলাদা সংগঠন পৃথক কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে, যা সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ইতোমধ্যে ৫ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীদের আরেকটি প্ল্যাটফর্ম ‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’ বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করার পর রাজধানীর শাহবাগে বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে।
বুধবার রাতে দুই সংগঠনের নেতারা পৃথকভাবে তাদের কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মূখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী জানিয়েছেন, তাদের পক্ষ থেকে এখনো নতুন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে মে দিবসে শাহবাগের জাদুঘরের সামনে একটি সমাবেশ আয়োজনের কথাও ভাবা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন এবং আশা করছেন সারাদেশের নেতা-কর্মীরা এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। এই সময়ের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম, বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ব্যয়, শিক্ষা খরচ, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিল উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে এবং তাদের ক্রয়ক্ষমতা আগের তুলনায় ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
সংগঠনটির নেতাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নবম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন, যাতে দ্রুত নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে তারা সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—আগামী ৫ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি জেলা শহরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এরপর ১০ এপ্রিল থেকে উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় শহরগুলোতে শান্তিপূর্ণ আলোচনা সভা ও প্রতিনিধি সমাবেশ আয়োজন করা হবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই সংগঠনগুলোর মূল লক্ষ্য।
Leave a Reply