নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিকে সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন করে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী আন্দোলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এই পরিকল্পনায় শুধু সাধারণ কর্মসূচি নয়, বরং কঠোর ও ধারাবাহিক কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি, পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি, গণঅবস্থানসহ বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টিকারী কর্মসূচি রাখা হয়েছে, যাতে করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় এবং দ্রুত দাবি আদায় সম্ভব হয়।
সম্প্রতি পে-স্কেল ইস্যু নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনেকগুলো সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু এসব সংগঠন আলাদা আলাদাভাবে বা বিক্ষিপ্তভাবে আন্দোলন ও দাবি আদায়ের চেষ্টা করায় সেই দাবিগুলো সরকারের কাছে শক্তভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে না। ফলে পে-স্কেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আশিকুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, সব সংগঠনকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি মনে করেন, যখন সব সংগঠন একসঙ্গে একই দাবিতে আন্দোলনে নামবে, তখন সরকারের ওপর একটি কার্যকর চাপ তৈরি হবে এবং দাবি আদায়ের পথ সহজ হবে। তাই সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আন্দোলনের অংশ হিসেবে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হবে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। এই যোগাযোগ কার্যক্রমকেও আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আশিকুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজন হলে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতির মতো কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি গণঅবস্থান, লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণার কথাও ভাবা হচ্ছে, যাতে আন্দোলন ধারাবাহিক ও দৃশ্যমান থাকে।
এছাড়া সারাদেশব্যাপী সমন্বিত কর্মসূচির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় দেশের প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে, যাতে স্থানীয় পর্যায় থেকেও দাবির পক্ষে চাপ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগানো হবে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পে-স্কেলের দাবিটি সরকারের নজরে আনা হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে জনমত গড়ে তোলা হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের সমর্থন আদায় করা সম্ভব হবে, যা আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Leave a Reply