বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত অতিরিক্ত ১০ শতাংশ উৎসব ভাতা নিয়ে বর্তমানে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মার্চ মাসের বেতনের সঙ্গে এই অতিরিক্ত ভাতা যুক্ত হচ্ছে না। ফলে প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে এখনো তারা বাড়তি এই সুবিধা পাচ্ছেন না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য উৎসব ভাতা ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়নি। অনুমোদন না পাওয়ায় কবে নাগাদ এই বাড়তি ভাতা কার্যকর হবে, সে সম্পর্কেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের ধোঁয়াশা ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জানানো হয়েছিল, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি ডেমি-অফিসিয়াল (ডিও) চিঠিও পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে দ্রুত অনুমোদনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার ৬৫১ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মরত আছেন। তারা বর্তমানে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন। তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার সামগ্রিক গুণগত মান বৃদ্ধির কথা বিবেচনায় নিয়ে এই ভাতা ৬০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ২৮৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য প্রায় ১৯০ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য প্রায় ৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, উৎসব ভাতা বৃদ্ধি পেলে শিক্ষক ও কর্মচারীদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়বে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। পাশাপাশি এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের ওপরও। এই কারণেই ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় মার্চ মাসে বাড়তি ভাতা কার্যকর হয়নি। এতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে, কারণ তারা কবে নাগাদ এই অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
Leave a Reply