এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তথ্যগত ভুলের কারণে বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বর্তমানে বেতন শিট (বিল) সাবমিট কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে এই বকেয়া বিল ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য শিক্ষকদের দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিল সাবমিট করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বকেয়া বিল সাবমিটের নির্ধারিত সময়সীমা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু বহু শিক্ষক এখনো তাদের বিল সাবমিট না করায় বিশেষ বিবেচনায় আবারও সুযোগ দেয়া হয়েছে। ঈদুল ফিতরের ছুটির পর একটি সভা আয়োজন করে বিল সাবমিটের এই সুযোগ বা অপশন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া হবে।
তিনি আরও জানান, যেসব শিক্ষক ইতোমধ্যে তাদের বিল সাবমিট করেছেন, তাদের বকেয়া অর্থ দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই বকেয়ার মধ্যে রয়েছে উৎসব ভাতা ও নিয়মিত বেতনের অর্থ।
এর আগে জানা যায়, শিক্ষকদের অনাগ্রহ ও ধীরগতির কারণে বিল সাবমিট কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছিল না। এ অবস্থায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা শিক্ষকদের দ্রুত বিল সাবমিট করার জন্য বারবার আহ্বান জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইএমআইএস সেলের এক কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের জন্য এখনো ১ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষক বিল সাবমিট করেননি। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বেতনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষকদের ধীরগতির কারণেই পুরো প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হচ্ছে। তারা যদি দ্রুত বিল সাবমিট করেন, তাহলে একদিকে যেমন অধিদপ্তরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে শিক্ষকরাও দ্রুত তাদের প্রাপ্য অর্থ পেয়ে যাবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক শিক্ষক এখনো বিল সাবমিটে গড়িমসি করছেন এবং কর্তৃপক্ষ তাদের বিলের অপেক্ষায় রয়েছে।
এছাড়া এর আগে অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক চিঠিতেও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের বিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। সেখানে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিল সাবমিট করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষক সেই নির্দেশনা অনুসরণ না করায় বেতন ও ভাতা ছাড়ে বিলম্ব সৃষ্টি হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতার অর্থ ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) পদ্ধতিতে প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানের জমাকৃত তথ্যকেই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি প্রতিষ্ঠান প্রধান অনলাইনে বিল সাবমিট না করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওর অর্থ ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো সম্ভব হবে না।
Leave a Reply