বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং এতে নতুন পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)–এর মাধ্যমে শিক্ষকদের সরাসরি এমপিওভুক্ত করা যায় কি না, তা সরকার আলোচনা করে দেখবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) মিন্টো রোডে নিজের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে শিক্ষা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে বর্তমানে যে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া রয়েছে, তা কমানোর বিষয়েও ইতিবাচক অবস্থান জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, অনেক সময় এমপিওভুক্তির কাগজপত্র যাচাই করতে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। তাই এই ধাপগুলো কমিয়ে প্রক্রিয়াটি সহজ করার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন যে ভবিষ্যতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়টি একসঙ্গে বিবেচনা করা হতে পারে, যাতে পুরো প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রসঙ্গেও তিনি খোলামেলা মন্তব্য করেন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)–এর চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)–এর মহাপরিচালক পদে নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার আগে তাকে ভালোভাবে বুঝতে হবে। কারণ ভুল মানুষকে দায়িত্ব দিলে ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, তার ব্যক্তিগত কোনো পছন্দ-অপছন্দ নেই এবং তিনি দুর্নীতির সঙ্গে আপস করেন না। তাই কোনো প্রকল্প পরিচালক (পিডি) বা কর্মকর্তাকে প্রয়োজন হলে কঠোরভাবে কথা বলতেও তার ভয় নেই। কারণ তিনি তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের সুবিধা নেন না।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন যে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সাবেক এক সচিব অনেক জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে গেছেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষাখাতে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো আপনারা লিখবেন। তখন তিনি সংশ্লিষ্ট সচিবকে তদন্তের জন্য ফাইল উত্থাপন করতে বলবেন।
মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব পরিবর্তনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, শুধু ওই বিভাগ নয়—প্রয়োজনে অন্য ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ইফতার অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিক্ষা সাংবাদিকরা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন দৈনিক আমাদের বার্তার নির্বাহী সম্পাদক বুলবুল আহমেদ, সিনিয়র রিপোর্টার সুতীর্থ বড়াল, শিমুল বিশ্বাস, মিথিলা মুক্তা ও সাবিহা সুমি।
Leave a Reply