বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রম শুরু করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে বদলির জন্য প্রাপ্ত শিক্ষক-তথ্য যাচাই (ডেটা ভ্যালিডেশন) কার্যক্রম দ্রুতগতিতে চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী সপ্তাহেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে বদলি আবেদন গ্রহণের অনুমতি চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হতে পারে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পরই অনলাইনে বদলি আবেদন গ্রহণ শুরু করা হবে।
বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে।
মাউশি মহাপরিচালক জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি কার্যক্রম শুরু করার আগে যেসব তথ্য ও কারিগরি প্রস্তুতি প্রয়োজন, সেগুলোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে শিক্ষক-তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “চলতি সপ্তাহের মধ্যে সব কার্যক্রম শেষ করার চেষ্টা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।”
বদলি আবেদনের জন্য শিক্ষকদের কতদিন সময় দেওয়া হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সোহেল বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “সারা দেশের কয়েক লাখ শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করবেন। সেজন্য তাদের কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।”
এর ফলে আবেদনকারীরা প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই, কাগজপত্র প্রস্তুত এবং অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
চলতি মাস থেকেই বদলি আবেদন গ্রহণ শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাউশি মহাপরিচালক বলেন, এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বলা সম্ভব নয়। কারণ আবেদন শুরুর বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। তবে সরকার যত দ্রুত সম্ভব এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু করতে চায় এবং সেই লক্ষ্যেই মাউশি প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করছে।
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “কবে থেকে আবেদন শুরু করা যাবে তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে সরকার যত দ্রুত সম্ভব এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু করতে চায়। আমরাও সেভাবেই কাজ করছি।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা একটি কার্যকর বদলি নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। সেই প্রেক্ষাপটে সরকার অনলাইনভিত্তিক বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে শিক্ষক-তথ্য ভ্যালিডেশন এবং সফটওয়্যারসংক্রান্ত প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললেই আনুষ্ঠানিকভাবে বদলি আবেদন গ্রহণ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
Leave a Reply