বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাই ২০২৬ মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ করতে অতিরিক্ত সময় লাগলে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২২ জুলাই) পর্যন্ত জুলাই মাসের বেতন বিল সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছিল। এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দেশের বিভিন্ন বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের বেতন বিল দাখিল করেছেন।
বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠানো তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা, এমপিওভুক্তির অবস্থা, পদসংক্রান্ত তথ্য, বেতন-ভাতার হিসাব এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো ধরনের অসঙ্গতি না থাকলে যাচাই শেষে বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে যাচাই কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হলে একই দিনেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে। কিন্তু কোনো কারণে তথ্য যাচাইয়ে বিলম্ব হলে প্রস্তাবটি আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) প্রফেসর মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী বলেন,
“জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো সম্ভব হবে।”
তিনি আরও জানান, প্রস্তাব পাঠানোর আগে সব তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে পরবর্তী ধাপে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ছাড় করা সম্ভব হয়।
জানা গেছে, প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অনলাইনের মাধ্যমে বিল দাখিল করেন। এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর জমা দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে।
যাচাই শেষে বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক অনুমোদনের পর বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। অর্থ ছাড়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংকে পাঠিয়ে দেয়। এরপর শিক্ষক-কর্মচারীরা নিজ নিজ ব্যাংক হিসাব থেকে বেতন উত্তোলন করতে পারেন।
সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে প্রদান নিশ্চিত করতে কয়েক বছর ধরে ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনলাইন অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করেছে।
এই ব্যবস্থার ফলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনলাইনে বিল জমা দেওয়া, তথ্য যাচাই, অনুমোদন এবং অর্থ ছাড়ের পুরো কার্যক্রম ডিজিটালভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। এতে কাগজপত্রের ব্যবহার কমেছে, প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস পেয়েছে এবং বেতন প্রক্রিয়াকরণ আগের তুলনায় আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জুলাই মাসের বেতন-ভাতা ছাড়ে কোনো বড় ধরনের বিলম্ব হবে না এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যথাসময়ে তাদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা পাবেন।
Leave a Reply