এদেশের ভাগ্যবিড়ম্বনার শিকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অবশেষে কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। বহুল প্রতীক্ষিত পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসব ভাতার তালিকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ড্যাশবোর্ডে দৃশ্যমান হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন কেবলমাত্র বেতন ও ভাতা সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের অপেক্ষা।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরেই নির্ধারিত সময়ে বেতন ও বিভিন্ন ভাতা পাওয়ার প্রত্যাশা করে আসছেন। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এই বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে, তবে আশানুরূপ উন্নতি এখনও পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। উৎসব ভাতার প্রস্তাব গতকাল মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কথা ছিল এবং সেই প্রক্রিয়া অনুযায়ী অনুমোদনের পর দ্রুত ইএফটি তালিকা ড্যাশবোর্ডে দৃশ্যমান হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণত ড্যাশবোর্ডে তালিকা দৃশ্যমান হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলোতে অর্থ স্থানান্তর করা হয়ে থাকে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেতন ও ভাতা অনুমোদন, বিল যাচাই-বাছাই, ইএফটি প্রস্তুতকরণ এবং চূড়ান্তভাবে অর্থ ছাড়—সব মিলিয়ে একটি ধারাবাহিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে অর্থ পৌঁছে যায়। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ইএফটির মাধ্যমে বেতন প্রদানের ব্যবস্থা চালু হওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অনেকাংশে নিশ্চিত হয়েছে এবং একই সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের ভোগান্তিও তুলনামূলকভাবে কমেছে।
তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, উৎসব ভাতার হারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগে যেমন ছিল, এখনও তেমনই রয়ে গেছে—অর্থাৎ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পাচ্ছেন। উৎসব ভাতা ৬০ শতাংশে উন্নীত করার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যেই এক ধরনের হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এ বিষয়ে প্রত্যাশা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
বর্তমানে পবিত্র রমজান মাস চলমান এবং আর মাত্র ১১–১২ দিনের মধ্যেই আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই সময়ে পরিবারের ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়—ইফতার, সেহরি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনাকাটা এবং ঈদের প্রস্তুতি মিলিয়ে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী আর্থিক চাপের মধ্যে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে যদি দ্রুত বেতন ও উৎসব ভাতা তাদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যায়, তবে তা নিঃসন্দেহে তাঁদের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হবে। সময়মতো বেতন পাওয়া গেলে পারিবারিক ব্যয় পরিকল্পনা করাও অনেক সহজ হয়ে যায়।
পাশাপাশি উৎসব ভাতাটিও যদি এই সপ্তাহের শেষ কিংবা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই প্রদান করা হয়, তাহলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অভাব-অনটনের মাঝেও কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হবে। ঈদকে ঘিরে সন্তানদের নতুন পোশাক কেনা, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা এবং পরিবারের জন্য ন্যূনতম আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করতে এই ভাতার গুরুত্ব অনেক বেশি।
শিক্ষক সমাজই একটি দেশের মানবসম্পদ গঠনের প্রধান কারিগর। তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করা মানে শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা। তাই ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার তালিকা ইএফটি ড্যাশবোর্ডে দৃশ্যমান হওয়া যেমন আশাব্যঞ্জক, তেমনি দ্রুত অর্থ স্থানান্তর এবং উৎসব ভাতা প্রদান করা হলে তা হবে সময়োপযোগী ও মানবিক সিদ্ধান্ত।
সব মিলিয়ে এখন অপেক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিক অর্থ স্থানান্তরের। আশা করা যায়, খুব শিগগিরই এই প্রতীক্ষার অবসান হবে—ইনশাআল্লাহ। আর যদি উৎসব ভাতাও দ্রুত প্রদান করা হয়, তবে রমজানের এই পবিত্র সময়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের ঘরে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও আনন্দের আবহ বইবে।
Leave a Reply