এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা আরও ১০ শতাংশ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা প্রদান করা হলেও নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এর সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ যুক্ত হতে পারে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে উৎসব ভাতা বেড়ে দাঁড়াবে ৬০ শতাংশে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সরকারের অতিরিক্ত ২০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে শতভাগ উৎসব ভাতার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের ধারাবাহিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ভাতা ১০ শতাংশ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এটি শতভাগ নয়, তবে দাবির আংশিক প্রতিফলন হিসেবে এই প্রস্তাব বিবেচনায় এসেছে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে সরকারের অতিরিক্ত ২০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাজেটের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে প্রস্তাবটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে প্রতি মাসে তিনটি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা মিলিয়ে প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাড়ে পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে বেতন-ভাতার সরকারি অংশ হিসেবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। চেক ছাড়ের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিল প্রস্তুত করে ব্যাংকে পাঠায়। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে সরাসরি বেতন পাচ্ছেন। এখনও কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষকদের ইএফটির আওতায় আনা হয়নি।
উৎসব ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা গত বছরের শুরু থেকেই আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার উৎসব ভাতা ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন মাসে ঈদুল আজহায় ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে। এতে স্কুলের ৩ লাখ ৩ হাজার ৪৫৪ জন কর্মচারীর জন্য মোট ৭৪২ কোটি ৩৪ লাখ ২৫ হাজার ২১৯ টাকা ৬২ পয়সা এবং কলেজের ৮৭ হাজার ৭৯৫ জন কর্মচারীর জন্য ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ ৫৫ হাজার ৮৬ টাকা ৬ পয়সা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সর্বমোট ১ হাজার ৩২ কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার ৩০৫ টাকা ৬৮ পয়সা ছাড়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে আসন্ন ঈদুল ফিতরের উৎসব ভাতার অর্থ এখনও ছাড় হয়নি।
Leave a Reply